তেল রপ্তানি নিয়ে ইরান–যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা আরও তীব্র The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

তেল রপ্তানি নিয়ে ইরান–যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা আরও তীব্র

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 10, 2026 ইং
তেল রপ্তানি নিয়ে ইরান–যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা আরও তীব্র ছবির ক্যাপশন:

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকলে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল থেকে তেল রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি)। তারা সতর্ক করে বলেছে, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে ওই অঞ্চল থেকে “এক লিটার তেলও” বিশ্বের বাজারে পৌঁছাতে দেওয়া হবে না।

চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে দেওয়া এই হুমকির ফলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা আরও বেড়ে গেছে। ইতোমধ্যে ওই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলো দিয়ে জাহাজ চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন যে চলমান যুদ্ধ খুব শিগগিরই শেষ হয়ে যেতে পারে। তবে তার ওই মন্তব্যের জবাবে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি ভিন্ন সুরে কথা বলেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুদ্ধের সমাপ্তি কখন হবে, তা নির্ধারণ করবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী। আইআরজিসি দাবি করেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে অঞ্চলের সমীকরণ এবং ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি এখন তাদের সামরিক শক্তির ওপর নির্ভর করছে।

রেভল্যুশনারি গার্ডস কোরের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র এই সংঘাতের সমাপ্তি ঘটাতে পারবে না। বরং পরিস্থিতি কীভাবে এগোবে, তা অনেকটাই নির্ভর করছে ইরানের সামরিক পদক্ষেপের ওপর।

আইআরজিসির এই বক্তব্যের পরই যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও পাল্টা কঠোর প্রতিক্রিয়া এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ বন্ধ করার চেষ্টা করে, তাহলে তাদের আরও কঠোর সামরিক হামলার মুখে পড়তে হবে।

ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক বার্তায় বলেন, যদি ইরান হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলের প্রবাহ বন্ধ করে দেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, এমন পদক্ষেপ নিলে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের হামলা আগের তুলনায় বহু গুণ শক্তিশালী হবে। তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন কিছু লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে, যেগুলো ধ্বংস হলে একটি রাষ্ট্র হিসেবে ইরানের পুনরুদ্ধার করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে।

ট্রাম্প আরও উল্লেখ করেন, পরিস্থিতি সেই পর্যায়ে গেলে ইরানের ওপর “মৃত্যু, আগুন এবং ধ্বংসযজ্ঞ” নেমে আসতে পারে। তবে একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে না এবং সংঘাত আরও বড় আকার ধারণ করবে না।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে রপ্তানিকৃত বিপুল পরিমাণ তেল এই নৌপথ দিয়েই আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে।

ফলে এই প্রণালিতে যেকোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি হলে তা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে তেলের দাম হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হুমকি বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনা যদি আরও বাড়ে, তাহলে তা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
প্রত্যাশিত দেশ গড়তে সবার সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী

প্রত্যাশিত দেশ গড়তে সবার সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী