জাপানকে ২-১ গোলে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল। মাঠের লড়াইয়ে জয় পেলেও, ম্যাচ শেষে সেলেসাও শিবিরে উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি দেখা দিয়েছে উদ্বেগের ছায়া। দলের মাঝমাঠের অন্যতম নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড় লুকাস পাকেতার চোটই এখন সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ব্রাজিল। প্রতিপক্ষ জাপানের বিপক্ষে বল দখল ও আক্রমণ তৈরিতে মাঝমাঠে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছিলেন পাকেতা। কিন্তু ম্যাচের প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ঘটে যায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। প্রতিপক্ষের অর্ধে আক্রমণ সাজানোর সময় হঠাৎ ডান উরুতে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন তিনি।
মাঠেই তার অস্বস্তি দেখে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেন ব্রাজিল কোচিং স্টাফ। কোনো ঝুঁকি না নিয়ে বিরতির পরপরই পাকেতাকে তুলে নেওয়া হয়। তার জায়গায় মাঠে নামেন তরুণ ফরোয়ার্ড এন্দ্রিক, যিনি আক্রমণে নতুন গতি আনার চেষ্টা করেন।
তবে পাকেতার চোট শুধু এক ম্যাচের জন্য নয়, ব্রাজিল শিবিরের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে নকআউট পর্বকে সামনে রেখে। ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুম থেকে বের হওয়ার সময় তাকে খুঁড়িয়ে হাঁটতে দেখা যায়, যা সমর্থকদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দেয়।
দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চোটের প্রকৃতি ও গভীরতা জানতে মঙ্গলবার তার বিস্তারিত মেডিকেল পরীক্ষা করা হবে। সেই রিপোর্টের ওপর নির্ভর করবে তিনি শেষ ষোলোর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠে নামতে পারবেন কি না।
ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তির জন্যও এটি একটি বড় ধাক্কা। কারণ পাকেতা দলের মাঝমাঠে সৃজনশীলতা, বল নিয়ন্ত্রণ এবং আক্রমণ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তার অনুপস্থিতি নকআউট ম্যাচে কৌশলগত পরিবর্তন আনতে বাধ্য করতে পারে ব্রাজিলকে।
অন্যদিকে, চোট পাওয়া সত্ত্বেও সতীর্থদের মনোবল ধরে রাখতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বার্তা দিয়েছেন পাকেতা। তিনি লিখেছেন, পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তারা এক হয়ে লড়াই চালিয়ে যাবেন।
এদিকে, জাপানকে হারিয়ে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নেওয়ার পর ব্রাজিল এখন তাকিয়ে আছে নরওয়ে ও আইভরি কোস্টের মধ্যকার পরবর্তী ম্যাচের দিকে। সেই ম্যাচের ফলের ওপর নির্ভর করবে নকআউটে তাদের প্রতিপক্ষ।
সব মিলিয়ে জয় পেলেও ব্রাজিল শিবিরে এখন প্রধান আলোচনার বিষয় একটাই—লুকাস পাকেতার ফিটনেস। তার সুস্থতা ঘিরে এখন অপেক্ষায় পুরো ফুটবল বিশ্ব।
কসমিক ডেস্ক