নড়াইলে ভিক্ষুক পুনর্বাসন প্রকল্প ব্যর্থ, আবারও বাড়ছে ভিক্ষাবৃত্তি The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

নড়াইলে ভিক্ষুক পুনর্বাসন প্রকল্প ব্যর্থ, আবারও বাড়ছে ভিক্ষাবৃত্তি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 28, 2026 ইং
নড়াইলে ভিক্ষুক পুনর্বাসন প্রকল্প ব্যর্থ, আবারও বাড়ছে ভিক্ষাবৃত্তি ছবির ক্যাপশন:

নড়াইল জেলায় ভিক্ষুক পুনর্বাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলেও বাস্তবে এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জেলা শহরের প্রবেশমুখে ‘স্বাগতম ভিক্ষুকমুক্ত নড়াইল জেলা’ লেখা সাইনবোর্ড থাকলেও শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। পুনর্বাসনের আওতায় আনা অনেক ভিক্ষুকই আবার আগের পেশায় ফিরে গেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শহরের বাস টার্মিনাল, বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এখনো নিয়মিত ভিক্ষুকদের দেখা মেলে। শুধু স্থানীয় নয়, অন্য জেলা থেকেও ভিক্ষুক এসে এখানে ভিড় করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

জেলা সমাজসেবা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ৭৯৮ জন ভিক্ষুককে পুনর্বাসনের আওতায় আনা হয়েছিল। জেলার তিনটি উপজেলার ৩৯টি ইউনিয়নে তাদের চিহ্নিত করে গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি, সেলাই মেশিন, ভ্যান, ছোট দোকান, ওজন মাপার যন্ত্র, টিন এবং নগদ অর্থসহ বিভিন্ন সহায়তা দেওয়া হয়। এছাড়া ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পের মাধ্যমে ঋণ সুবিধাও প্রদান করা হয়েছিল।

এর পাশাপাশি অনেক ভিক্ষুককে বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতার আওতায় আনা হয়। তবে কয়েক বছরের মধ্যেই এসব উদ্যোগের কার্যকারিতা কমে যায়। পুনর্বাসন পাওয়া অনেকেই আবার ভিক্ষাবৃত্তিতে ফিরে যান।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সদর উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সামনেও ভিক্ষুকদের উপস্থিতি রয়েছে। হুইলচেয়ারে বসে ভিক্ষা করতে থাকা আব্দুস সালাম জানান, তিনি যশোর জেলার জামদিয়া ইউনিয়নের ভিটেবলা গ্রাম থেকে নড়াইলে ভিক্ষা করতে এসেছেন। তার ভাষায়, নিজ এলাকায় ভিক্ষা করলে তেমন সাহায্য পাওয়া যায় না, তাই অন্য জেলায় আসতে হয়।

এছাড়া রূপগঞ্জ বাজার এলাকায় ভিক্ষা করতে থাকা জাহাজান নামে এক বৃদ্ধ জানান, তিনি পুনর্বাসনের আওতায় আর্থিক সহায়তা পেয়েছিলেন। তবে তা পর্যাপ্ত না হওয়ায় আবার ভিক্ষাবৃত্তিতে ফিরতে বাধ্য হয়েছেন।

একইভাবে কলোড়া গ্রামের সুখ রানি বলেন, সরকারি ভাতা দিয়ে সংসার চালানো সম্ভব হয় না। স্বামীর অসুস্থতা ও দৈনন্দিন খরচ সামলাতে না পেরে তাকে আবার ভিক্ষা করতে হচ্ছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষেরাও ভিক্ষুকদের উপস্থিতিতে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। রূপগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী ইয়াসিন জানান, যশোর জেলার ধলগাঁ এলাকা থেকে দলবদ্ধভাবে ভিক্ষুকরা প্রতি হাটবারে নড়াইলে আসে এবং সারাদিন ভিক্ষা শেষে আবার ফিরে যায়। এতে বাজারের পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ বিষয়ে সদর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা উত্তম সরকার বলেন, ভিক্ষাবৃত্তি দূর করতে বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি তাদের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, অনেকেই ভিক্ষাবৃত্তি ছেড়ে অন্য পেশায় গেছেন। তবে বাইরের জেলা থেকে ভিক্ষুক আসার কারণে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। পুনর্বাসিতদের যেন আবার ভিক্ষায় না ফিরতে হয়, সে জন্য কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

সব মিলিয়ে, নড়াইলে ভিক্ষুক পুনর্বাসন প্রকল্পের বাস্তবায়ন সত্ত্বেও তা টেকসই ফলাফল দিতে পারেনি। ফলে পুনরায় ভিক্ষাবৃত্তি বৃদ্ধি পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
সীমান্ত নিরাপত্তায় কুমির-সাপ ব্যবহারের পরিকল্পনা ভারতের

সীমান্ত নিরাপত্তায় কুমির-সাপ ব্যবহারের পরিকল্পনা ভারতের