পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আবারও দর্শকদের জন্য বিশেষ আয়োজন নিয়ে আসছে বাংলাদেশের জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’। বরেণ্য নির্মাতা হানিফ সংকেতের রচনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনায় নির্মিত এবারের ঈদ বিশেষ পর্বটি বিনোদনের নানা উপাদানে সাজানো হয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানটি শুরু হবে কালজয়ী গান ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ’-এর পরিবেশনার মাধ্যমে। এরপর থাকছে দেশাত্মবোধক ও ভিন্নধর্মী গান, তারকা শিল্পীদের অংশগ্রহণ, এবং অর্ধশত নৃত্যশিল্পীর পরিবেশনায় বর্ণাঢ্য নৃত্যানুষ্ঠান। ঈদকে ঘিরে পারিবারিক দর্শকের জন্য পরিচ্ছন্ন ও বৈচিত্র্যময় বিনোদন তুলে ধরাই এবারের আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
‘ইত্যাদি’ দীর্ঘদিন ধরেই বাংলা টেলিভিশন দর্শকদের কাছে শুধু একটি ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান নয়, বরং উৎসবকেন্দ্রিক বিনোদনের একটি ঐতিহ্য। প্রতি ঈদেই অনুষ্ঠানটি নতুনত্ব, সামাজিক বার্তা এবং মনোরঞ্জনের সমন্বয়ে বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করে। এ বছরের আয়োজনেও সেই ধারা বজায় রাখা হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বরাবরের মতো এবারও ‘ইত্যাদি’র নাট্যাংশে সামাজিক অসংগতি, গ্রামীণ জীবনের নানা বাস্তবতা এবং সমসাময়িক বিষয় তুলে ধরা হবে। অর্থাৎ, কেবল বিনোদন নয়, দর্শকদের ভাবনার জায়গাও তৈরি করবে অনুষ্ঠানটি। এই দিকটি ‘ইত্যাদি’র স্বকীয় বৈশিষ্ট্যের অন্যতম অংশ, যা দীর্ঘ সময় ধরে অনুষ্ঠানটিকে আলাদা মর্যাদা এনে দিয়েছে।
এবারের পর্বে সংগীত ও নৃত্যের পাশাপাশি থাকছে মিউজিক্যাল ড্রামা, দর্শক অংশগ্রহণে বিশেষ প্রতিযোগিতা এবং বিদেশিদের নিয়ে একটি ব্যতিক্রমী পর্ব। এই উপাদানগুলো থেকে বোঝা যায়, অনুষ্ঠানটি একঘেয়ে বিন্যাসে সীমাবদ্ধ থাকছে না; বরং বিভিন্ন বয়স ও রুচির দর্শকদের কথা মাথায় রেখে কনটেন্ট সাজানো হয়েছে। বিশেষ করে ঈদের সময় পরিবারকেন্দ্রিক দর্শন অভ্যাসের কথা বিবেচনায় নিলে, এমন বৈচিত্র্যময় আয়োজন অনুষ্ঠানটিকে আরও গ্রহণযোগ্য করে তুলতে পারে। প্রকাশিত ট্রেলার ও সংবাদসূত্রগুলোতেও ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, এবারের ‘ইত্যাদি’তে ঐতিহ্যবাহী উপস্থাপনার সঙ্গে নতুন ভিজ্যুয়াল আকর্ষণও রাখা হয়েছে।
অনুষ্ঠানটির সম্প্রচার সূচিও ইতোমধ্যে নিশ্চিত হয়েছে। সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ঈদের পরদিন রাত সাড়ে ৮টায় বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) এবং বিটিভি ওয়ার্ল্ডে একযোগে ‘ইত্যাদি’ প্রচারিত হবে। এই সময়সূচি ঈদ-পরবর্তী পারিবারিক টিভি দর্শনের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এই সময়ে ঘরোয়া বিনোদন অনুষ্ঠানের দর্শকসংখ্যা সাধারণত বেশি থাকে। বিটিভির সঙ্গে বিটিভি ওয়ার্ল্ডে একযোগে প্রচারের কারণে দেশের পাশাপাশি বিদেশে থাকা বাংলা ভাষাভাষী দর্শকরাও অনুষ্ঠানটি উপভোগের সুযোগ পাবেন।
হানিফ সংকেতের নাম ‘ইত্যাদি’র সঙ্গে এমনভাবে জড়িয়ে আছে যে, অনুষ্ঠানটির নতুন কোনো পর্ব প্রচারের খবরই দর্শকদের মধ্যে আলাদা প্রত্যাশা তৈরি করে। তার উপস্থাপনা, সামাজিক ব্যঙ্গ, কথার নির্মাণশৈলী এবং দেশীয় সংস্কৃতিনির্ভর বিন্যাস বহু বছর ধরে এ অনুষ্ঠানকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে রেখেছে। এবারের ঈদ আয়োজনেও সেই পরিচিত শক্তিগুলো বজায় থাকছে বলে সংবাদসূত্রে উল্লেখ রয়েছে। শুরুতে কালজয়ী ঈদের গান, তার পরপরই ভিন্ন ঘরানার সঙ্গীত, তারকা শিল্পীদের পরিবেশনা, নৃত্য, নাট্যাংশ ও প্রতিযোগিতার সমন্বয় ইঙ্গিত দেয় যে, এটি শুধুমাত্র একটি টিভি শো নয়; বরং পূর্ণাঙ্গ উৎসব বিনোদন প্যাকেজ হিসেবেই পরিকল্পনা করা হয়েছে।
ঈদের সময় টেলিভিশন অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা সব সময়ই থাকে, তবে ‘ইত্যাদি’ আলাদা জায়গা তৈরি করে মূলত তার বিষয়বস্তুর ভারসাম্যের কারণে। এটি যেমন হাসায়, তেমনি সমাজের অসংগতি নিয়ে প্রশ্ন তোলে; যেমন বিনোদন দেয়, তেমনি সংস্কৃতির শেকড়ের কথাও মনে করিয়ে দেয়। তাই ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানটির নতুন পর্ব প্রচারের খবর স্বাভাবিকভাবেই দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রে এসেছে। সামগ্রিকভাবে বলা যায়, গান, নাচ, নাট্যাংশ, সামাজিক বার্তা, প্রতিযোগিতা এবং ব্যতিক্রমী পরিবেশনার সমন্বয়ে এবারের ‘ইত্যাদি’ ঈদ উৎসবে টেলিভিশন দর্শকদের জন্য অন্যতম আকর্ষণীয় আয়োজন হয়ে উঠতে পারে। তবে অনুষ্ঠানের সম্পূর্ণ প্রভাব ও দর্শকপ্রতিক্রিয়া জানা যাবে সম্প্রচারের পরই।
কসমিক ডেস্ক