মাদক ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার লক্ষ্যে রাজধানীতে বর্ণাঢ্য র্যালি ও সমাবেশের আয়োজন করেছে তেজগাঁও থানা বিএনপি। শনিবার অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সহযোগী সংগঠনের সদস্যরাও অংশ নেন।
র্যালিটি তেজগাঁও সরকারি বিজ্ঞান কলেজের সামনে থেকে শুরু হয়ে নাখালপাড়া হয়ে নাবিস্কো মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল আলম নীরব, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক সদস্য ও তেজগাঁও থানা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মোহাম্মদ আলী, আবু সুফিয়ান দুলাল, মুজাহিদুর রহমান, রইছ উদ্দিন, সাফিজুর রহমান, আবদুল বাসেদ, আবু বকর সিদ্দিক, গোলাম হোসেন মানিক, তারিকুল ইসলাম বাহালুল, সালামত খান সজিব, খাইরুল ইসলাম সেলিম, জালাল আহমেদ, মশিউর রহমান সোহান, আখতার হোসেন, মাহবুবুল আলম রাজন, কামাল মাহমুদসহ তেজগাঁও থানা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাইফুল আলম নীরব বলেন, মাদক একটি ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি, যা ব্যক্তি, পরিবার এবং সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। তিনি সবাইকে মাদককে ‘না’ বলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র—সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই একটি সুস্থ, নিরাপদ ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, দেশের উন্নয়ন ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে মাদক, সন্ত্রাস এবং সব ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি একটি আধুনিক, উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।
সমাবেশে অন্যান্য বক্তারাও বলেন, মাদক ও সন্ত্রাস দেশের যুবসমাজের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই দুই সামাজিক ব্যাধি মোকাবিলায় শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার এবং সাধারণ জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণও প্রয়োজন।
বক্তারা তরুণদের মাদক থেকে দূরে রেখে মানবিক, সুশৃঙ্খল ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী সামাজিক আন্দোলন জোরদার করার আহ্বান জানান।
আয়োজকদের মতে, এ ধরনের জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি নিয়মিত আয়োজনের মাধ্যমে মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ আরও শক্তিশালী করা সম্ভব হবে এবং তরুণ প্রজন্মকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কসমিক ডেস্ক