বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকাল ৮টায় তিনি একটি কূটনৈতিক প্রতিনিধিদল নিয়ে রাজধানীর বসুন্ধরায় অবস্থিত জামায়াত আমিরের কার্যালয়ে যান।
সাক্ষাতে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের পলিটিক্যাল ও ইকোনমিক কনসোলার এরিক গিলম্যান, পাবলিক অফিসার মনিকা এল সাই, পলিটিক্যাল অফিসার জেমস স্টুয়ার্ট এবং পলিটিক্যাল স্পেশালিস্ট ফিরোজ আহমেদ। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও দলটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, অত্যন্ত আন্তরিক ও হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে মতবিনিময় হয়। পাশাপাশি শিল্প ও বাণিজ্য খাতের অগ্রগতি, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন, রাষ্ট্রীয় সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনায় উঠে আসে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় জামায়াতে ইসলামীর ইতিবাচক ভূমিকার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তিনি ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
জামায়াত আমিরের সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মো. মোবারক হোসাইন এবং আমিরে জামায়াতের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মাহমুদুল হাসান।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, চলমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই সাক্ষাৎ গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কূটনৈতিক মহলের যোগাযোগ ও মতবিনিময় নতুন মাত্রা যোগ করছে।
এ বিষয়ে মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে আলাদা কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহের অংশ হিসেবেই এই ধরনের সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক