মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে Iran। দেশটির ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি) জানিয়েছে, ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪’-এর অংশ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে।
আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, কুয়েতে আল-আদিরি সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়, যেখানে মার্কিন সেনাদের উপস্থিতি এবং হেলিকপ্টার মোতায়েনের অবকাঠামো ছিল। এছাড়া ইরাকের রাজধানী বাগদাদ এবং উত্তর ইরাকের বিভিন্ন স্থানে ড্রোন হামলার কথাও জানানো হয়েছে।
তাদের দাবি, উত্তর ইরাকে ইরানবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীর অন্তত পাঁচটি অবস্থানে আঘাত হানা হয়েছে। পাশাপাশি United Arab Emirates-এ একটি ইসরায়েলি-সম্পৃক্ত ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্রেও হামলা চালানো হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
ইসরায়েলের বিভিন্ন শহর—তেল আবিব, হাইফা, বেয়ার শেবা ও পেতাহ টিকভায় সামরিক ও অবকাঠামোগত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার দাবিও করেছে আইআরজিসি।
এছাড়া ইরান দাবি করেছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইসফাহান ও লোরেস্তান অঞ্চলে একাধিক ড্রোন ভূপাতিত করেছে, যার মধ্যে একটি এমকিউ-৯ ড্রোনও রয়েছে।
নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে একটি ইসরায়েলি কন্টেইনার জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ USS Tripoli-এর ওপর হামলার দাবি করে জানানো হয়েছে, সেটিকে পিছু হটতে বাধ্য করা হয়েছে।
আইআরজিসি আরও সতর্ক করে বলেছে, Strait of Hormuz এবং উপসাগরীয় জলসীমায় সব ধরনের নৌচলাচল তাদের নজরদারিতে রয়েছে এবং যেকোনো শত্রুতামূলক পদক্ষেপের জবাব কঠোরভাবে দেওয়া হবে।
এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
কসমিক ডেস্ক