পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দান এবার ভিন্ন সাজে সেজে উঠেছে। ঈদ জামাতকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি ও জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মুসল্লিদের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদে নামাজ আদায়ের জন্য সব ধরনের সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ঈদগাহ ময়দানের চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে নান্দনিকভাবে সাজানো হয়েছে। প্রধান ফটকের সামনে দৃষ্টিনন্দন তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে, যেখানে লেখা রয়েছে—‘ওহ মন রমজানে ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ, ঈদ মোবারক।’ এই সাজসজ্জা ঈদের আনন্দঘন পরিবেশকে আরও বর্ণিল করে তুলেছে।
পুরো ঈদগাহ মাঠ ত্রিপল দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে এবং মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের সুবিধার্থে কার্পেট বিছানো হয়েছে। এছাড়া পর্যাপ্ত ফ্যানের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে গরমে মুসল্লিরা স্বস্তি পান। বিদ্যুৎ বিভ্রাট হলে বিকল্প ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
অজুর জন্য আলাদা স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সারি সারি নতুন পানির ট্যাপ স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি সুপেয় পানির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে, যাতে মুসল্লিরা কোনো ধরনের ভোগান্তিতে না পড়েন।
নিরাপত্তা নিশ্চিতে জাতীয় ঈদগাহে বহুমাত্রিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পুলিশ ও র্যাবের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া ফায়ার সার্ভিসের একটি টিমও প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে কোনো জরুরি পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলা করা যায়।
প্রবেশ ব্যবস্থায়ও আনা হয়েছে পরিবর্তন। জাতীয় ঈদগাহে দুটি প্রধান প্রবেশপথ রাখা হয়েছে। ভিভিআইপিদের জন্য সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ দিয়ে আলাদা প্রবেশপথ নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া নারী মুসল্লিদের জন্য আলাদা নামাজের স্থান ও পৃথক প্রবেশপথের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার জানিয়েছেন, ঈদের জামাতে অংশ নিতে মুসল্লিরা শুধুমাত্র জায়নামাজ, ছাতা ও মোবাইল ফোন সঙ্গে আনতে পারবেন। তবে কোনো ধরনের ব্যাগ বা দাহ্য বস্তু বহন করা যাবে না।
তিনি আরও জানান, জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে মোট পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকা মহানগরে মোট ১২১টি ঈদগাহ মাঠ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর বাইরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বাণিজ্য মেলায়ও নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঈদগাহের প্রবেশপথে আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টর বসানো হবে। পুরো এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারিতে রাখা হবে। ঈদগাহ ময়দানের আশপাশে কোনো ধরনের যানবাহন প্রবেশ বা পার্কিংয়ের অনুমতি থাকবে না।
মৎস্য ভবন, প্রেসক্লাব এবং শিক্ষা ভবনকে প্রবেশপথ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য কিছু এলাকায় ডাইভারশন রাখা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে জিরো পয়েন্ট, সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল, দোয়েল চত্বর ও মৎস্য ভবন এলাকা।
আবহাওয়া প্রতিকূল হলে বিকল্প হিসেবে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে সকাল ৯টায় ঈদের জামাত আয়োজনের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সব মিলিয়ে ঈদগাহ ময়দানে মুসল্লিদের নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ ও আনন্দঘন পরিবেশে ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রশাসন আশা করছে, এই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে রাজধানীতে শান্তিপূর্ণভাবে ঈদ উদযাপন সম্ভব হবে।
কসমিক ডেস্ক