দীর্ঘ ৫৪ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও চাঁদের অভিমুখে মানুষের যাত্রা শুরু হলো। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা NASA সফলভাবে তাদের বহুল প্রতীক্ষিত Artemis II মিশনের উৎক্ষেপণ সম্পন্ন করেছে।
ফ্লোরিডার Kennedy Space Center থেকে স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে ৩২ তলা বিশিষ্ট শক্তিশালী রকেটটি মহাকাশে যাত্রা শুরু করে। এই ঐতিহাসিক মুহূর্ত প্রত্যক্ষ করতে কেপ ক্যানাভেরালে হাজারো মানুষ জড়ো হয়।
এই মিশনে অংশ নিয়েছেন চারজন অভিজ্ঞ নভোচারী—মিশন কমান্ডার হিসেবে রিড ওয়াইজম্যান, পাইলট হিসেবে ভিক্টর গ্লোভার এবং মিশন স্পেশালিস্ট হিসেবে ক্রিস্টিনা কচ ও কানাডার জেরেমি হ্যানসেন।
উৎক্ষেপণের আগে জেরেমি হ্যানসেন বলেন, তারা পুরো মানবজাতির প্রতিনিধিত্ব করেই এই অভিযানে অংশ নিচ্ছেন, যা এই মিশনের বৈশ্বিক গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে।
আর্টেমিস-২ মূলত একটি পরীক্ষামূলক মিশন, যেখানে প্রথমবারের মতো মানুষবাহী এই মহাকাশযানের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হবে। নভোচারীরা চাঁদের চারপাশে প্রদক্ষিণ করবেন, তবে এই মিশনে তারা চাঁদের মাটিতে অবতরণ করবেন না।
মিশনের অংশ হিসেবে মহাকাশযানের ম্যানুয়াল নিয়ন্ত্রণ সক্ষমতা যাচাই করতে ডকিং সিমুলেশন পরিচালনা করা হবে। প্রায় ১০ দিনের এই অভিযানের পর নভোচারীরা পৃথিবীতে ফিরে আসবেন।
মিশন ডিরেক্টর চার্লি ব্ল্যাকওয়েল-থম্পসন নভোচারীদের বিদায় জানিয়ে বলেন, তারা নতুন প্রজন্মের আশা ও স্বপ্ন বহন করে মহাকাশে যাচ্ছেন।
এই মিশনের সফলতা ভবিষ্যতের Artemis III মিশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করবে, যার মাধ্যমে মানুষ আবারও চাঁদের মাটিতে পা রাখার পরিকল্পনা করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই অভিযান শুধু প্রযুক্তিগত সাফল্য নয়, বরং মানবজাতির মহাকাশ অনুসন্ধানের নতুন যুগের সূচনা।
কসমিক ডেস্ক