কয়দিন পর হয়তো বলবেন, গোলাম আজম স্বাধীনতার ঘোষক: রিজভী The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

কয়দিন পর হয়তো বলবেন, গোলাম আজম স্বাধীনতার ঘোষক: রিজভী

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Feb 3, 2026 ইং
কয়দিন পর হয়তো বলবেন, গোলাম আজম স্বাধীনতার ঘোষক: রিজভী ছবির ক্যাপশন:
ad728

জামায়াতে ইসলামীর আমিরের উদ্দেশে কড়া সমালোচনা করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ইতিহাস বিকৃতির ধারাবাহিকতায় কয়দিন পর হয়তো তারা বলবেন—গোলাম আজমই ছিলেন স্বাধীনতার ঘোষক। তিনি বলেন, মিথ্যা বলতে জামায়াত কখনোই পিছুপা হয় না এবং রাজনৈতিক স্বার্থে তারা প্রতিষ্ঠিত সত্যকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় দলটির উদ্যোগে পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে আয়োজিত মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনী যখন বাংলাদেশের মা-বোনদের ওপর নির্মম নির্যাতন চালিয়েছে, তখন জামায়াত সেই নির্যাতনকে অপরাধ হিসেবে স্বীকার করেনি। বরং তারা ওই বাহিনীর পৃষ্ঠপোষকতা ও সমর্থন দিয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, সেই ইতিহাসের দায় এড়িয়ে আজ কোন মুখে এবং কোন উদ্দেশ্যে স্বাধীনতার ঘোষক নিয়ে কথা বলা হচ্ছে।

নারীদের বিষয়ে জামায়াতের আমিরের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, কুরুচিপূর্ণ ও অবমাননামূলক মন্তব্যের কারণে সারাদেশের নারী সমাজ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। সেই ক্ষোভ আড়াল করতেই এখন স্বাধীনতার ঘোষক নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে। তবে প্রতিষ্ঠিত সত্যকে বিতর্কিত করে বাস্তবতা আড়াল করা যাবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

১৯৮৬ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ওই সময় এরশাদের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়েও জামায়াতে ইসলাম ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নির্বাচনে অংশ নেয়। একইভাবে তৎকালীন আওয়ামী লীগও অবস্থান পরিবর্তন করে। অথচ বেগম খালেদা জিয়া তখন নির্বাচনে যাননি। দীর্ঘ নয় বছর ধরে তিনি সংগ্রাম করেছেন, নির্যাতন সহ্য করেছেন, বন্দিত্ব ও গৃহবন্দিত্বের শিকার হয়েছেন, কিন্তু নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি।

রিজভী বলেন, সত্য একসময় প্রকাশ পায়। আজ নারীদের বিষয়ে দেওয়া বক্তব্যের মধ্য দিয়েই জামায়াতের আসল চরিত্র জনগণের সামনে আসতে শুরু করেছে।

স্বাধীনতার ঘোষক প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, চট্টগ্রামে জামায়াতের আমির যাকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন, তিনি নিজেও কখনো এমন দাবি করেননি। প্রকৃত স্বাধীনতার ঘোষক ছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তিনি একজন মেজর হিসেবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে জাতিকে দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন এবং মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমানের সঙ্গে যিনি সহকারী হিসেবে কাজ করেছিলেন, তিনিও নিজের লেখায় বারবার সম্মানের সঙ্গে জিয়াউর রহমানের নাম উল্লেখ করেছেন। এমনকি রাজনৈতিক জীবনেও তিনি নিজেকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে কখনো দাবি করেননি। এসব তথ্য তার প্রকাশিত বইয়েও রয়েছে।

রিজভী অভিযোগ করেন, কেউ কেউ ইসলামের নামে রাজনীতি ও ব্যবসা করে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল করতে চায়। ধর্মকে ক্ষমতায় যাওয়ার হাতিয়ার বানানো হচ্ছে। অথচ বাংলাদেশের মুসলমানরা ইসলামকে ব্যবসার বস্তু নয়, জীবনব্যবস্থার আদর্শ হিসেবে ধারণ করে।

নারীদের মর্যাদা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইসলাম নারীদের সর্বোচ্চ সম্মান দিয়েছে। ইসলামের প্রথম বাণী গ্রহণকারী ছিলেন একজন নারী—হযরত খাদিজা (রা.)। অথচ আজ নারীদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হচ্ছে, যা পুরো সমাজকে লজ্জায় ফেলেছে।

তিনি বলেন, এই ক্ষোভ ঢাকতেই স্বাধীনতার ঘোষক ইস্যু সামনে আনা হচ্ছে। কিন্তু এই কৌশল কাজে আসবে না এবং নারীদের প্রতি অবমাননাকর বক্তব্যের দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. মাইনুল ইসলামসহ দলের নেতাকর্মীরা।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ের আশাবাদ ছাত্রদল সভাপতির

১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ের আশাবাদ ছাত্রদল সভাপতির