৪৩তম বিসিএস নন-ক্যাডার নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ঘিরে দীর্ঘদিনের বিতর্কের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত মনে করেছেন, এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার ঘাটতি ছিল এবং প্রচলিত বিধি-বিধানের যথাযথ অনুসরণ করা হয়নি। সেই প্রেক্ষাপটে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে মেধার ভিত্তিতে ফলাফল প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকার ও বিচারপতি উর্মি রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বলা হয়েছে, নিয়োগ প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও মেধার মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফলাফল প্রকাশ করতে হবে।
আদালতে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার হুমায়ন কবির পল্লব। শুনানি শেষে তিনি জানান, হাইকোর্ট তাদের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছেন যে, ৪৩তম বিসিএস নন-ক্যাডার নিয়োগে প্রচলিত আইনের ব্যত্যয় ঘটানো হয়েছিল। এ কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং চাকরিপ্রত্যাশীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়।
ঘটনার সূত্রপাত হয় ২০২৩ সালে। সে সময় বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) ৪৩তম বিসিএসের নন-ক্যাডার পদে ৬৪২ জনকে নিয়োগ দেয়। তবে নিয়োগের আগে বা পরে পূর্ণাঙ্গ মেধাতালিকা প্রকাশ করা হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। এতে অনেক প্রার্থী নিজেদের বঞ্চিত মনে করেন এবং নিয়োগের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালে ৪৬২ জন চাকরিপ্রত্যাশী এই নিয়োগ প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। রিটে দাবি করা হয়, মেধার ভিত্তিতে ফলাফল প্রকাশ না করে নিয়োগ দেওয়ার ফলে যোগ্য প্রার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং পুরো প্রক্রিয়ার গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
হাইকোর্টের সর্বশেষ রায়ের মাধ্যমে সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যুক্ত হলো। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এখন মেধাভিত্তিক ফলাফল প্রকাশের উদ্যোগ নিতে হবে। এর ফলে নিয়োগপ্রত্যাশীদের মধ্যে নতুন করে আশা তৈরি হয়েছে যে, তাদের যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়ন হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বিসিএসের মতো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার ক্ষেত্রে মেধাতালিকা প্রকাশ ও নির্বাচন প্রক্রিয়া স্পষ্ট না হলে তা চাকরিপ্রার্থীদের আস্থা নষ্ট করতে পারে। আদালতের এই রায় ভবিষ্যতের নিয়োগ কার্যক্রমেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
এখন নজর থাকবে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত ৬০ দিনের মধ্যে মেধাভিত্তিক ফলাফল প্রকাশ করা হলে দীর্ঘদিন ধরে চলা এই বিতর্কের একটি আইনি সমাধান সামনে আসতে পারে।
কসমিক ডেস্ক