দেশের স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব এবং পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছেন বিএনপি নেতা ও গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান। শনিবার (২৭ জুন) ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে সাংবাদিকদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে তিনি বলেন, বিএনপি কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের পক্ষে রাজনীতি করে না; বরং জাতীয় স্বার্থ ও দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রশ্নে দলটি সব সময় দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।
রাশেদ খান বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি হবে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পরিচালিত। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিবেশীসহ বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার পক্ষে বিএনপি। তবে সেই সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মান, সমতা এবং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে হওয়া উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি দাবি করেন, অতীতের সরকার দেশের স্বার্থের ক্ষেত্রে সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছিল। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপিকে ভারতের ঘনিষ্ঠ বলে যে সমালোচনা করা হয়, তা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ বিষয়ে তিনি নিজের রাজনৈতিক মূল্যায়ন তুলে ধরে বলেন, বিএনপি কোনো দেশের স্বার্থে নয়, বরং বাংলাদেশের স্বার্থেই রাজনীতি করে।
সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে রাশেদ খান বলেন, বর্তমানে সীমান্তে দায়িত্ব পালনকারী বাহিনী অধিক আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। তার মতে, দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
এ সময় তিনি দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন। জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি এবং কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার সাম্প্রতিক বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করেন। পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সরকারি বরাদ্দ বণ্টন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা দলগুলোর তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
পুশ-ইন ইস্যু প্রসঙ্গেও তিনি বিএনপির অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। তার দাবি, বিএনপি কোনো বিদেশি শক্তির পক্ষ নেয় না। একই সঙ্গে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক পক্ষগুলোর উদ্দেশে বিভিন্ন প্রশ্ন ও সমালোচনাও তুলে ধরেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন দলের নেতারা নিয়মিতভাবে পররাষ্ট্রনীতি, সীমান্ত পরিস্থিতি এবং জাতীয় স্বার্থ নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছেন। এসব বক্তব্য সংশ্লিষ্ট নেতাদের নিজস্ব রাজনৈতিক মতামত ও অবস্থান হিসেবে বিবেচ্য। উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য ও স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য তথ্য পাওয়া গেলে সামগ্রিক চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।
কসমিক ডেস্ক