সব ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

সব ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 27, 2026 ইং
সব ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী ছবির ক্যাপশন:

জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী বলেছেন, দেশের সব ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং দক্ষতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি কার্যকর ও জনমুখী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

শনিবার (২৭ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে সংস্কার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে এবং নিয়োগ, পদায়ন ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে সততা, দক্ষতা ও মেধাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

আব্দুল বারী বলেন, একটি দক্ষ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন ছাড়া কোনো বাজেটের সফল বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে দুর্বল হয়ে পড়া প্রশাসনিক কাঠামোকে পুনর্গঠনের কাজ চলমান রয়েছে, যাতে সরকারি সেবার মান আরও উন্নত করা যায়।

প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট জনবান্ধব, বাস্তবসম্মত এবং বাস্তবায়নযোগ্য। বিভিন্ন অংশীজনের মতামত, অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং ভবিষ্যতের সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় রেখেই বাজেটটি প্রস্তুত করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, বাজেট প্রণয়নের আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ধারাবাহিক মতবিনিময় করেছেন। পাশাপাশি অর্থমন্ত্রীও দীর্ঘ প্রস্তুতি ও পর্যালোচনার মাধ্যমে একটি বাস্তবমুখী বাজেট উপস্থাপন করেছেন। এ জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।

আব্দুল বারী আরও বলেন, নতুন বাজেটে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ওয়ান স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে বিনিয়োগ প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা কমানো, আর্থিক খাতের সংস্কার, ব্যাংকিং ব্যবস্থার উন্নয়ন, জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বাজেটে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের ভাতা, স্বাস্থ্য কার্ডসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকার ধান ও চাল সংগ্রহ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। একই সঙ্গে বাজারে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজেও নিবিড়ভাবে তদারকি করছেন।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশেও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আঙুর, অ্যাভোকাডো ও স্ট্রবেরির মতো উচ্চমূল্যের ফলের চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।

তিনি জানান, ২০২৬–২৭ অর্থবছরের উন্নয়ন কর্মসূচির জন্য বরাদ্দকৃত ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকার যথাযথ ও স্বচ্ছ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকার বিশেষ নজরদারি করছে। উন্নয়ন প্রকল্পগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ এবং জাতীয় আয় বৃদ্ধি পাবে, যা দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে সহায়তা করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ঈদের পর দেশে ফেরার পথে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম

ঈদের পর দেশে ফেরার পথে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম