ডিআর কঙ্গোতে ইবোলায় মৃত ৩০০ ছাড়াল, দ্রুত বাড়ছে সংক্রমণ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ডিআর কঙ্গোতে ইবোলায় মৃত ৩০০ ছাড়াল, দ্রুত বাড়ছে সংক্রমণ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jun 26, 2026 ইং
ডিআর কঙ্গোতে ইবোলায় মৃত ৩০০ ছাড়াল, দ্রুত বাড়ছে সংক্রমণ ছবির ক্যাপশন:

কঙ্গোর গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে (ডিআর কঙ্গো) ইবোলা ভাইরাসের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব আরও উদ্বেগজনক রূপ নিয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মে প্রাদুর্ভাব ঘোষণার পর থেকে এখন পর্যন্ত ১,১৫৫ জনের ইবোলা সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। এর মধ্যে ৩০৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে মৃত্যুহার দাঁড়িয়েছে ২৬ দশমিক ৩ শতাংশ, যা পরিস্থিতির গুরুতর দিকটি স্পষ্টভাবে তুলে ধরছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এবারের প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী বুন্ডিবুগিও ধরনের ইবোলা ভাইরাস। ইতোমধ্যে এই সংক্রমণ দেশের ৩৪টি স্বাস্থ্য অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমানে ইতুরি, নর্থ কিভু এবং সাউথ কিভু—এই তিনটি প্রদেশে সংক্রমণ সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে ইতুরি প্রদেশকে প্রাদুর্ভাবের মূল কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

তবে উদ্বেগের মধ্যেও কিছুটা স্বস্তির খবর পাওয়া গেছে। ইতুরি প্রদেশে আরও ১৬ জন রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। নেগেটিভ পরীক্ষার ফল পাওয়ার পর তাদের ছাড়পত্র দেওয়া হয়। এর ফলে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৮ জন।

এদিকে, আফ্রিকাজুড়ে ইবোলা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আফ্রিকা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (আফ্রিকা সিডিসি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, মহাদেশব্যাপী ইবোলা প্রতিরোধ, চিকিৎসা এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন হবে।

এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে আফ্রিকা সিডিসির মহাপরিচালক জ্যাঁ কাসেয়া জানান, সম্প্রতি আফ্রিকান ইউনিয়নের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক অংশীদার সংস্থা মিলিয়ে ৯১০ মিলিয়ন ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত তার মাত্র ১৩ শতাংশ অর্থ ছাড় করা হয়েছে। ফলে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম বাস্তবায়নে অর্থসংকট বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে ডিআর কঙ্গো সরকার। ইবোলা আক্রান্ত এলাকা থেকে আগত ভ্রমণকারীদের জন্য ২১ দিনের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিন চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি আক্রান্ত এলাকাগুলোতে নজরদারি, রোগী শনাক্তকরণ এবং স্বাস্থ্যসেবা জোরদারের উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত শনাক্তকরণ, কার্যকর আইসোলেশন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ছাড়া এই প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হতে পারে। তাই সংক্রমণ রোধে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
ঈদযাত্রায় মহাসড়কে বাড়ছে ঘরমুখো মানুষের চাপ

ঈদযাত্রায় মহাসড়কে বাড়ছে ঘরমুখো মানুষের চাপ