পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজ ক্যাম্পাস গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) বসুন্ধরা টিস্যু ও বসুন্ধরা শুভসংঘের যৌথ উদ্যোগে বর্ণাঢ্য বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘সবুজে সুন্দর আগামী’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং বসুন্ধরা শুভসংঘের সদস্যরা অংশ নেন।
শনিবার (২৭ জুন) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্ট্রাল ফিল্ড এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক নজরুল ইসলাম।
উদ্বোধনের পর অংশগ্রহণকারীরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান, সেন্ট্রাল ফিল্ডের চারপাশ এবং বিভিন্ন আবাসিক হলের প্রাঙ্গণে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করেন। আয়োজকদের মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে আরও সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব করে তোলাই মূল লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সময়ে জলবায়ু পরিবর্তন বিশ্বব্যাপী একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই পরিস্থিতিতে বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। তিনি বলেন, তরুণদের সম্পৃক্ত করে বসুন্ধরা শুভসংঘ যে সবুজায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে, তা পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্যের জন্য পরিচিত একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এ ধরনের কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি করবে এবং ভবিষ্যতে রোপণ করা গাছগুলো ক্যাম্পাসের সবুজ পরিবেশকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
কর্মসূচি শেষে অনুভূতি প্রকাশ করেন বসুন্ধরা শুভসংঘ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি প্রত্যাশা রানী। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সফলভাবে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সম্পন্ন হওয়ায় তারা আনন্দিত। এই উদ্যোগ ক্যাম্পাসকে আরও সবুজ ও পরিবেশবান্ধব করে তুলবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, শুধু গাছ লাগানোই নয়, সেগুলোর নিয়মিত পরিচর্যাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই শিক্ষার্থীদের গাছের যত্ন নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি টেকসই ও সবুজ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব।
বসুন্ধরা শুভসংঘের পক্ষ থেকে আয়োজকদের সহযোগিতা করা সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং স্বেচ্ছাসেবীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণে এমন উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
কসমিক ডেস্ক