চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ বাতিলের দাবিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো কর্মবিরতিতে নেমেছেন বন্দর শ্রমিক ও কর্মচারীরা। এর ফলে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম আবারও কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
সোমবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া এই কর্মবিরতি চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ ও জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের বন্দর শাখার ডাকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে বলে জানানো হয়েছে।
বন্দর ব্যবহারকারীরা জানিয়েছেন, কর্মবিরতি শুরু হওয়ার পর বন্দরের বিভিন্ন জেটিতে জাহাজ থেকে পণ্য ও কনটেইনার ওঠানো-নামানো কার্যক্রম প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে ইয়ার্ড থেকে পণ্য খালাস কার্যক্রমও স্থবির হয়ে পড়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর ও দেশের ১৯টি বেসরকারি কনটেইনার ডিপো (আইসিডি)-এর মধ্যে কনটেইনার পরিবহন বন্ধ থাকায় পণ্য সরবরাহে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এই কর্মবিরতিকে অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছে। বন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর হয়নি।
এর মধ্যেই রোববার সন্ধ্যায় দুই দফায় ১২ জন কর্মচারীকে বদলির আদেশ জারি করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, বদলি হওয়া কর্মচারীরা এনসিটি ইস্যুতে চলমান আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত মোট ১৬ জন কর্মচারীকে বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।
তবে এসব অভিযোগ নাকচ করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) মো. ওমর ফারুক বলেন, দাপ্তরিক প্রয়োজনে এটি একটি নিয়মিত বদলি। এর সঙ্গে আন্দোলনের কোনো সম্পর্ক নেই।