১১ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ: বেনজীরের বিরুদ্ধে বিচার শুরু The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

১১ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ: বেনজীরের বিরুদ্ধে বিচার শুরু

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 3, 2026 ইং
১১ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ: বেনজীরের বিরুদ্ধে বিচার শুরু ছবির ক্যাপশন:

দুর্নীতির মামলায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ-এর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ১১ কোটি টাকার বেশি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে করা মামলায় আদালত অভিযোগ গঠন (চার্জগঠন) করে বিচার শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন।

রোববার (৩ মে) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুন এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১৩ মে দিন ধার্য করা হয়েছে।

আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী মীর আহমেদ আলী সালাম। তিনি আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। তবে আসামি পলাতক থাকায় তার পক্ষে কোনো আইনজীবী আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।

এর আগে, গত ৮ মার্চ আদালত মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) আমলে নিয়ে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। মামলাটি দায়ের করা হয় ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর। এতে বাদী ছিলেন হাফিজুল ইসলাম, যিনি দুর্নীতি দমন কমিশনের উপপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তদন্ত শেষে গত বছরের ৩০ নভেম্বর বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এতে তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন করা এবং অর্থ পাচারের (মানিলন্ডারিং) অভিযোগ আনা হয়েছে।

চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়, বেনজীর আহমেদ তার দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে মোট ৬ কোটি ৪৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৫ টাকার স্থাবর সম্পদ এবং ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের ঘোষণা দেন। কিন্তু তদন্তে তার নামে ৭ কোটি ৫২ লাখ ৬৮ হাজার ৯৮৭ টাকার স্থাবর সম্পদ এবং ৮ কোটি ১৫ লাখ ৩১ হাজার ২৬৪ টাকার অস্থাবর সম্পদের প্রমাণ পাওয়া যায়।

এ হিসেবে তার মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। অন্যদিকে, তার বৈধ আয়ের উৎস হিসেবে পাওয়া গেছে ৬ কোটি ৫৯ লাখ ৪২ হাজার ৬৬৮ টাকা। ব্যয় বাদ দিয়ে নিট সঞ্চয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ কোটি ৬৩ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭৫ টাকা। ফলে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ১১ কোটি ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৬ টাকা।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, এই অবৈধ অর্থের উৎস, প্রকৃতি ও মালিকানা গোপন রাখতে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং যৌথ মূলধনী প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ, স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে অর্থ পাচারের চেষ্টা করা হয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের মামলায় অভিযোগ গঠন হওয়া মানেই বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অতিক্রম করা। এখন সাক্ষ্যগ্রহণ ও প্রমাণ উপস্থাপনের মাধ্যমে মামলার পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে যাবে। আসামি পলাতক থাকলেও আইন অনুযায়ী বিচার কার্যক্রম চলমান রাখা সম্ভব।

এই মামলাটি দেশের প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উচ্চপর্যায়ের একজন সাবেক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে হওয়ায় এটি জনমনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও এ মামলার মাধ্যমে নতুন করে সামনে এসেছে।

সব মিলিয়ে, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির এই মামলার বিচার কার্যক্রম এখন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। আগামী ১৩ মে থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হলে মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
বাস টার্মিনালে উত্তেজনা, শ্রমিক নেতা আটক

বাস টার্মিনালে উত্তেজনা, শ্রমিক নেতা আটক