ইরানকে ঘিরে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে বহুদিনব্যাপী সামরিক বিমান মহড়া পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে অঞ্চলটিতে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরীর নেতৃত্বে একটি বড় নৌবহর মোতায়েন করেছে দেশটি। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) অধীনস্থ এয়ার ফোর্সেস সেন্ট্রাল জানায়, তারা একটি ‘বহুদিনব্যাপী প্রস্তুতি মহড়া’ পরিচালনা করবে। এই মহড়ার মাধ্যমে সেন্টকমের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় যুদ্ধবিমান দ্রুত মোতায়েন, ছড়িয়ে দেওয়া এবং দীর্ঘ সময় ধরে পরিচালনার সক্ষমতা প্রদর্শন করা হবে।
এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই মহড়ার উদ্দেশ্য হলো সামরিক সম্পদ ও জনবল দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়ার সক্ষমতা বৃদ্ধি, আঞ্চলিক অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করা এবং যে কোনো পরিস্থিতিতে নমনীয় ও কার্যকর সামরিক প্রতিক্রিয়ার জন্য প্রস্তুত থাকা।
তবে মহড়ার নির্দিষ্ট সময়সূচি, স্থান কিংবা এতে অংশগ্রহণকারী মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে সোমবার সেন্টকম জানায়, পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নেতৃত্বে একটি বড় নৌবহর মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে। এই রণতরীতে কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান এবং প্রায় পাঁচ হাজার নাবিক অবস্থান করছেন। বহরের সঙ্গে একাধিক গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার রয়েছে, যা বিমানবাহী রণতরীর প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করবে।
ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমানের একটি স্কোয়াড্রনও মোতায়েন করেছে। এই ইউনিটটি এর আগেও ২০২৪ সালের এপ্রিলে ইরানে পরিচালিত হামলায় অংশ নিয়েছিল। একই সময়ে যুক্তরাজ্যও ‘প্রতিরক্ষামূলক উদ্দেশ্যে’ টাইফুন যুদ্ধবিমান পাঠিয়েছে।
সেন্টকম জানিয়েছে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতেই ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করছে। এই সামরিক উপস্থিতি প্রতিরক্ষামূলক এবং আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের পাশে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশাল নৌবহর মোতায়েন রয়েছে, যা ভেনেজুয়েলার কাছাকাছি অবস্থানের চেয়েও বড়। তবে তিনি আলোচনার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। ট্রাম্পের ভাষায়, ইরান চুক্তি করতে আগ্রহী এবং তারা একাধিকবার যোগাযোগ করেছে।
সেন্টকম আরও জানিয়েছে, এই সামরিক মহড়াগুলো মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত হবে। বাহরাইনের সঙ্গে একটি প্রতিরক্ষামূলক মহড়ার পরিকল্পনাও রয়েছে, যেখানে ড্রোন প্রতিহত করার সক্ষমতা অনুশীলন করা হবে।
তবে এই সামরিক মোতায়েন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু মিত্র দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) জানিয়েছে, তারা ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলায় নিজেদের আকাশসীমা, ভূখণ্ড বা জলসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেবে না এবং নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখবে।
সেন্টকমের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সব ধরনের সামরিক কার্যক্রম স্বাগতিক দেশের অনুমোদন সাপেক্ষে এবং বেসামরিক ও সামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হবে, যাতে নিরাপত্তা, নির্ভুলতা ও সংশ্লিষ্ট দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান নিশ্চিত করা যায়।
কসমিক ডেস্ক