অভিবাসন অভিযান নিয়ে চাপের মুখে হোয়াইট হাউস The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

অভিবাসন অভিযান নিয়ে চাপের মুখে হোয়াইট হাউস

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 27, 2026 ইং
অভিবাসন অভিযান নিয়ে চাপের মুখে হোয়াইট হাউস ছবির ক্যাপশন:
ad728

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিসে চলমান অভিবাসনবিরোধী অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া বর্ডার পেট্রল কমান্ডার গ্রেগরি বোভিনোকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। অভিযানের সময় দ্বিতীয়বারের মতো একজন সাধারণ নাগরিক নিহত হওয়ার পর প্রশাসন সেখানে ফেডারেল বাহিনীর উপস্থিতি কমানোর পাশাপাশি নেতৃত্বে বড় ধরনের রদবদলের পথে হাঁটছে।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান–এর এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ৫৫ বছর বয়সী গ্রেগরি বোভিনো মঙ্গলবার মিনেসোটা ত্যাগ করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, বোভিনো তার সঙ্গে থাকা একদল এজেন্ট নিয়ে রাজ্য ছাড়ছেন। ডেমোক্র্যাট নেতা ও মানবাধিকারকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরেই তার বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ, অপেশাদার আচরণ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে আসছিলেন।

অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, বোভিনোর জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা ‘কমান্ডার অ্যাট লার্জ’ পদটি বাতিল করা হয়েছে। তাকে ক্যালিফোর্নিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র–মেক্সিকো সীমান্তে তার আগের দায়িত্বে—প্রধান বর্ডার পেট্রল এজেন্ট হিসেবে—ফিরিয়ে পাঠানো হচ্ছে।

এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার ঘোষণা দিয়েছিলেন, তিনি তার বর্ডার জার টম হোম্যানকে মিনেসোটায় পাঠাচ্ছেন। হোম্যান সেখানে ‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’ নামের চলমান অভিযানের সরাসরি তদারকি করবেন এবং তিনি প্রেসিডেন্টকে সরাসরি রিপোর্ট করবেন।

তবে এই সিদ্ধান্ত আসে ৩৭ বছর বয়সী আইসিইউ নার্স অ্যালেক্স প্রেত্তিকে গুলি করে হত্যার ঘটনার পর। ওই ঘটনার পর হোয়াইট হাউস তাদের অভিবাসন অভিযান সংক্রান্ত কৌশলে পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়। ট্রাম্প সোমবার মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালৎস এবং মিনিয়াপোলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। এর আগে তিনি এই দুই ডেমোক্র্যাট নেতাকেই রাজ্যে বিশৃঙ্খলার জন্য দায়ী করেছিলেন। তবে সাম্প্রতিক বক্তব্যে তার সুর তুলনামূলকভাবে নরম ছিল।

গ্রেগরি বোভিনোর পদাবনতির খবরটি প্রথম প্রকাশ করে মার্কিন সাময়িকী দ্য আটলান্টিক। প্রতিবেদনে বলা হয়, বোভিনো শিগগিরই অবসরে যেতে পারেন। যদিও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এই দাবি নাকচ করে জানায়, বোভিনোকে তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়নি। বরং তাকে একজন ‘দেশপ্রেমিক’ হিসেবে প্রশংসা করা হয়।

এদিকে বোভিনোর মিনেসোটা ছাড়ার খবরে বিক্ষোভকারীরা শান্ত হয়নি। তিনি যে হোটেলে অবস্থান করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, তার বাইরে মানুষ জড়ো হয়ে থালা–বাসন পিটিয়ে এবং বাঁশি বাজিয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।

বোভিনো ট্রাম্প প্রশাসনের এই বিতর্কিত অভিবাসন অভিযানের একজন উগ্র সমর্থক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি অভিযানের সিনেমাটিক প্রচারণা ভিডিও বানাতেন এবং প্রায়ই মাস্কবিহীন দাপুটে ভঙ্গিতে উপস্থিত হতেন, যেখানে তার আশপাশের অন্য এজেন্টদের মুখ ঢাকা থাকত। তার পোশাক ও আচরণের জন্য অনেক সমালোচক তাকে নাৎসি বাহিনীর সঙ্গে তুলনা করেছিলেন।

গত সপ্তাহে নিহত অ্যালেক্স প্রেত্তির বিষয়ে বোভিনো দাবি করেছিলেন, প্রেত্তি বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করছিলেন। তবে প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, তার হাতে কোনো অস্ত্র ছিল না—ছিল শুধু একটি মোবাইল ফোন। এর আগেও আদালতে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে একজন ফেডারেল বিচারক তাকে কড়া ভাষায় তিরস্কার করেছিলেন।

এই পরিস্থিতিতে গ্রেগরি বোভিনোকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তকে ট্রাম্প প্রশাসনের একটি কৌশলগত পিছু হটা হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
জামায়াতের জনতার ইশতেহারে রেকর্ডসংখ্যক মতামত জমা

জামায়াতের জনতার ইশতেহারে রেকর্ডসংখ্যক মতামত জমা