ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তির কয়েক মাস পর আবারও আলোচনায় এসেছে নাটক ‘নীলাঞ্জনা এক্সপ্রেস’। এবার নাটকটি ঘিরে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন অভিনেত্রী পারসা ইভানা ও নির্মাতা ফরহাদ আহমেদ ইশান। সম্পূর্ণ পারিশ্রমিক না পাওয়ার অভিযোগ তুলে সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পারসা। অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে নির্মাতা দাবি করেছেন, পারিশ্রমিক নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির পাশাপাশি তাকে ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করতে না দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
গতকাল ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে পারসা ইভানা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে নির্মাতা ইশানের কাছে পারিশ্রমিক চাওয়ার কয়েকটি স্ক্রিনশট শেয়ার করেন। সেখানে তিনি লেখেন, সাত মাস ধরে নিজের প্রাপ্য পারিশ্রমিকের জন্য অপেক্ষা করছেন। শুধু তিনি নন, টিমের আরও অনেক সদস্যও এখনো তাদের পাওনা বুঝে পাননি বলে দাবি করেন তিনি।
পারসা লেখেন, নির্মাতা তাকে কিছু টাকা দিয়েছেন, তবে পুরো অর্থ এখনো পরিশোধ করা হয়নি। নিজের পাওনা আংশিকভাবে মেনে নিলেও টিমের অন্য সদস্যদের বকেয়া নিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে প্রোডাকশন বয়দের মতো দিন এনে দিন খাওয়া মানুষের প্রাপ্য টাকা না পাওয়ার বিষয়টি তাকে কষ্ট দিয়েছে বলে জানান তিনি।
অভিনেত্রী আরও লেখেন, যারা নতুন করে ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ শুরু করেছে, তাদের জন্য প্রাপ্য সম্মান ও পারিশ্রমিক নিশ্চিত করা জরুরি। তার মতে, এমন একটি ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তোলা উচিত যেখানে সততা, দায়িত্ববোধ এবং পেশাদারত্বকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। অসততা ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কোনো জায়গা সেখানে থাকা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পারসার এই অভিযোগের পর নির্মাতা ফরহাদ আহমেদ ইশান গণমাধ্যমে ভিন্ন বক্তব্য দেন। তিনি স্বীকার করেন, পারসার কাছে এখনো ১০ হাজার টাকা বাকি আছে। তবে তার দাবি, ব্যক্তিগত কারণে তিনি পুরো অর্থ এখনো পরিশোধ করতে পারেননি। ইশান বলেন, পারসার সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে এবং তিনি দ্রুত পাওনা বুঝিয়ে দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন।
তবে নির্মাতার অভিযোগ, পারসা ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে এমনভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করেছেন যেন প্রোডাকশন বয়সহ অনেকেই তার কাছে টাকা পান, যা সত্য নয়। ইশানের দাবি, দু-একজন ছাড়া প্রায় সবাইকে তিনি পারিশ্রমিক পরিশোধ করে দিয়েছেন।
নির্মাতা আরও বলেন, কয়েক মাস ধরে তার মা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় তিনি মানসিক ও আর্থিক চাপে আছেন। এই পরিস্থিতির কথা পারসাকে জানানো হলেও তিনি উল্টো হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন ইশান। তার ভাষায়, পারসা বলেছেন, তিনি কীভাবে ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করেন, তা দেখে নেবেন। এমনকি নির্মাতার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরও পোস্টে শেয়ার করা হয়েছে, যার ফলে তিনি হেনস্তার শিকার হচ্ছেন বলে দাবি করেন।
পারিশ্রমিক সমস্যার পেছনে শুটিংয়ের সময়সূচি নিয়েও পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন ইশান। তার দাবি, নির্দিষ্ট সময়ে শুটিং শেষ করতে না পারায় এই জটিলতা তৈরি হয়েছে। এর পেছনে পারসারও দায় রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। ইশান জানান, জয়দেবপুরে গ্রামীণ পরিবেশে শুটিংয়ের সময় ভালো মানের ওয়াশরুম না থাকার অজুহাতে অভিনেত্রী অনেক সময় নষ্ট করেছেন। ফলে তিনটি দৃশ্যের শুটিং শেষ না করেই তাদের ফিরে আসতে হয়।
পরে শিল্পীদের শিডিউল মেলাতে না পারায় এবং পারসার পক্ষ থেকেও সময় না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত ওই তিনটি দৃশ্য ছাড়াই নাটকটি মুক্তি দিতে বাধ্য হন বলে জানান নির্মাতা। তার মতে, এই কারণেই পারিশ্রমিক সংক্রান্ত জটিলতা আরও বেড়েছে।
সব মিলিয়ে ‘নীলাঞ্জনা এক্সপ্রেস’ এখন শুধু একটি নাটক নয়, বরং পারিশ্রমিক, পেশাদারত্ব, দায়বদ্ধতা এবং পারস্পরিক অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের নতুন বিতর্কের নাম হয়ে উঠেছে। সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ পারসার অভিযোগকে যৌক্তিক বলছেন, আবার কেউ নির্মাতার বক্তব্যকেও গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন।
শোবিজ অঙ্গনের অনেকেই মনে করছেন, এমন বিতর্কের সুষ্ঠু সমাধান হওয়া জরুরি। কারণ, কাজের পরিবেশে আস্থা ও পেশাদার সম্পর্ক বজায় না থাকলে ভবিষ্যতে আরও জটিলতা তৈরি হতে পারে। এখন দেখার বিষয়, পারসা ইভানা ও নির্মাতা ফরহাদ আহমেদ ইশানের এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়।
কসমিক ডেস্ক