বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পর জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সম্পর্কে বিভিন্ন সমালোচনামূলক মন্তব্য করেছেন দলটির অঙ্গসংগঠন যুব শক্তির ঢাকা জেলা উত্তরের সাবেক আহ্বায়ক সেঁজুতি হোসাইন। শনিবার (২৭ জুন) একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, অভিজ্ঞতার অভাবে এনসিপি একাধিক ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।
সাক্ষাৎকারে সেঁজুতি হোসাইন বলেন, তিনি কোনো পদ বা ব্যক্তিগত সুবিধার আশায় বিএনপিতে যোগ দেননি। তার ভাষায়, মানুষের জন্য কাজ করা এবং গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখার লক্ষ্যেই তিনি বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘আমি গণতন্ত্রে বিশ্বাসী, ভোটাধিকারে বিশ্বাসী। এলাকার মানুষের সমস্যার সমাধানে যতটুকু সম্ভব কাজ করে যেতে চাই। সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করব।’
এনসিপির সাংগঠনিক কার্যক্রম সম্পর্কে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সেঁজুতি বলেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময় থেকে তিনি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন এবং পরে নাগরিক কমিটির বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন। পরবর্তীতে নাগরিক কমিটি থেকে এনসিপি গঠনের পর দলটির সাংগঠনিক ভিত্তি গড়ে তুলতেও তিনি কাজ করেছেন বলে দাবি করেন।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, আন্দোলনের সময় সাধারণ মানুষ প্রায়ই জানতে চাইতেন ‘নাগরিক কমিটি’ কী এবং এর পরিচয় কী। কারণ তখন সংগঠনটি সাধারণ মানুষের কাছে খুব বেশি পরিচিত ছিল না। পরে এনসিপি রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধিত হওয়ার পরও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে দলটি সফল হতে পারেনি বলে তিনি অভিযোগ করেন।
সেঁজুতি হোসাইন আরও বলেন, নিজের সময়, শ্রম এবং ব্যক্তিগত অর্থ ব্যয় করে তিনি এনসিপিকে একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য কাজ করেছেন। তবে পরবর্তীতে দলীয় সিদ্ধান্ত ও নেতৃত্বের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তিনি হতাশ হয়েছেন।
তার দাবি, বিশেষ করে ঢাকা উত্তর অঞ্চলে যারা দল গঠনে ভূমিকা রেখেছেন, তাদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। বরং দলীয় মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব ছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন।
সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দলের নেতৃত্ব বিভিন্ন ব্যক্তিকে কী বিবেচনায় মনোনয়ন দিয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি দিলশানা পারুল নামের একজন প্রার্থীর মনোনয়নের বিষয়টি উল্লেখ করেন। তার দাবি, সংশ্লিষ্ট এলাকায় ওই প্রার্থীকে অনেকেই চিনতেন না। পরে রাজনৈতিক জোটের কারণে কিছু ভোট পেলেও তিনি ব্যক্তিগতভাবে তার বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন।
সেঁজুতি হোসাইন মনে করেন, একটি রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, এসব ক্ষেত্রে ঘাটতির কারণেই এনসিপি জনগণের আস্থা ধরে রাখতে পারেনি।
তবে সাক্ষাৎকারে উত্থাপিত এসব অভিযোগ ও সমালোচনার বিষয়ে এনসিপির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন দল থেকে নেতাকর্মীদের দলবদল এবং সেই সঙ্গে পূর্ববর্তী দলের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করছে। সেঁজুতি হোসাইনের বক্তব্যও সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক