ডাবল স্ট্যান্ড নিয়ে শরিয়াহ আইন বাস্তবায়নের পক্ষে নই : ত্রাণমন্ত্রী The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

ডাবল স্ট্যান্ড নিয়ে শরিয়াহ আইন বাস্তবায়নের পক্ষে নই : ত্রাণমন্ত্রী

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 10, 2026 ইং
ডাবল স্ট্যান্ড নিয়ে শরিয়াহ আইন বাস্তবায়নের পক্ষে নই : ত্রাণমন্ত্রী ছবির ক্যাপশন:

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী Asadul Habib Dulu বলেছেন, গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো ভিন্ন মতের প্রতি শ্রদ্ধা ও সহনশীলতা। তবে দ্বৈত নীতি বা “ডাবল স্ট্যান্ড” নিয়ে শরিয়াহ আইন বাস্তবায়নের পক্ষে সরকার নয় বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সঙ্গে নিয়েই একটি সুন্দর ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য।

রোববার বিকেলে কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবের নির্মীয়মাণ ভবনের নিচতলায় আয়োজিত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন ত্রাণমন্ত্রী। এ সময় তিনি রাজনৈতিক সহনশীলতা, গণমাধ্যমের দায়িত্বশীলতা এবং উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন প্রসঙ্গেও বিস্তারিত বক্তব্য তুলে ধরেন।

মন্ত্রী বলেন, জনগণ যে প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে সরকারকে দায়িত্ব দিয়েছে, সেটি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করাই সরকারের প্রধান দায়িত্ব। তাঁর ভাষায়, মতপার্থক্য থাকতেই পারে, সেটিই গণতন্ত্রের স্বাভাবিক সৌন্দর্য। তবে যেকোনো আইন বা নীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সবার জন্য একই মানদণ্ড অনুসরণ করা জরুরি।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বস্তুনিষ্ঠ ও নির্ভুল সংবাদ পরিবেশন সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সত্যতা যাচাই ছাড়া কোনো সংবাদ প্রকাশ না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সাংবাদিকরা সঠিকভাবে সমালোচনা করলে জনপ্রতিনিধিরাও দায়িত্বশীল থাকেন। এতে জনসাধারণের আস্থা বাড়ে এবং উন্নয়ন কার্যক্রমও গতিশীল হয়।

সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে Asadul Habib Dulu কুড়িগ্রামের উন্নয়ন প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এখনও অনেকের কাছে কুড়িগ্রাম একটি পশ্চাৎপদ জেলা হিসেবে পরিচিত। অথচ এ অঞ্চলের সম্ভাবনা অনেক বেশি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও গণমাধ্যম একসঙ্গে কাজ করলে জেলাটিকে উন্নত জেলার কাতারে নিয়ে যাওয়া সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ত্রাণমন্ত্রী বলেন, একটি নদীকে ঘিরে সভ্যতা গড়ে ওঠার কথা থাকলেও তিস্তা নদীর কারণে উত্তরাঞ্চলের অনেক এলাকা উল্টো পিছিয়ে পড়েছে। তাঁর মতে, নদীভাঙন, বন্যা ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে রংপুর বিভাগের বহু মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি সফি খান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মাহফুজার রহমান খন্দকার। সভায় জেলার বিভিন্ন উপজেলার সাংবাদিক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, উন্নয়নকর্মী এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, সদস্যসচিব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, যুগ্ম আহ্বায়ক হাসিবুর রহমান ও শফিকুল ইসলাম বেবুসহ আরও অনেকে অংশ নেন। এছাড়া জেলা প্রশাসক Annapurna Debnath এবং কুড়িগ্রাম পৌরসভার সাবেক মেয়র Abu Bakar Siddique উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকালে লালমনিরহাটের বাসভবন থেকে সড়কপথে কুড়িগ্রামে পৌঁছান ত্রাণমন্ত্রী। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। এরপর কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্ভাব্য স্থান হিসেবে নির্ধারিত নালিয়ারদোলা এলাকা পরিদর্শন করেন।

একই দিনে সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের আরাজী পলাশবাড়ী এলাকায় খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধনও করেন Asadul Habib Dulu। স্থানীয়রা আশা করছেন, এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কৃষি, পানি ব্যবস্থাপনা ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে মেডিকেল বোর্ড

খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে মেডিকেল বোর্ড