আসামের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্ব শর্মার বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে দেওয়া সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রতিবাদে ঢাকায় ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পাওয়ান বঢ়েকে তলব করেছে বাংলাদেশ সরকার। একই সঙ্গে এ বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদপত্রও হস্তান্তর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাকে ডেকে এই কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানানো হয়। সন্ধ্যায় মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, বিকেল ৫টার পর মহাপরিচালক (দক্ষিণ এশিয়া অনুবিভাগ) ইশরাত জাহানের দপ্তরে ভারতীয় ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে তলব করা হয়। সেখানে তাকে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানানো হয় এবং লিখিত প্রতিবাদপত্র তুলে দেওয়া হয়।
জানা গেছে, চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে একটি ভারতীয় গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্ব শর্মা বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক নিয়ে কিছু মন্তব্য করেন, যা ঢাকা “অবমাননাকর ও বিভ্রান্তিকর” বলে উল্লেখ করেছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী “পুশব্যাক” বা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ফেরত পাঠানো বিষয়ে তার বক্তব্য নিয়ে আপত্তি জানানো হয়।
সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, অনিবন্ধিত সন্দেহভাজন বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সবসময় অনুসরণ করা সম্ভব হয় না। তিনি আরও বলেন, অনেক সময় সীমান্ত এলাকায় রাতের অন্ধকারে তাদের পাঠানো হয়, যখন সীমান্তরক্ষী বাহিনীর উপস্থিতি কম থাকে। এই বক্তব্যকে বাংলাদেশ সরকার দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৈঠকে স্পষ্ট করে জানায়, এ ধরনের স্পর্শকাতর ও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ ছাড়া মন্তব্য দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর। বাংলাদেশ আরও উল্লেখ করে, যেকোনো অনিষ্পন্ন বিষয় আন্তর্জাতিক আইন এবং বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সমাধান করা উচিত।
ঢাকা আরও সতর্ক করে জানায়, ভবিষ্যতে দায়িত্বশীল রাজনৈতিক ব্যক্তিদের এমন মন্তব্য থেকে বিরত থাকা উচিত, যা দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে প্রভাবিত করতে পারে।
কূটনৈতিক সূত্র বলছে, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও বহুমাত্রিক। বাণিজ্য, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক সহযোগিতায় দুই দেশের সম্পর্ক গভীরভাবে যুক্ত। এ কারণে যেকোনো ভুল বা সংবেদনশীল মন্তব্য দ্রুত কূটনৈতিক পর্যায়ে প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক যোগাযোগ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিশেষ করে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও অবৈধ অনুপ্রবেশ ইস্যুতে উভয় দেশেরই নিয়মিত আলোচনা ও সমন্বয় প্রয়োজন।
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ককে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয় এবং ভবিষ্যতেও গঠনমূলক ও পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। তবে একই সঙ্গে কোনো ধরনের বিভ্রান্তিকর বা উসকানিমূলক মন্তব্যের ক্ষেত্রে কূটনৈতিকভাবে জবাব দেওয়ার অবস্থানও স্পষ্ট করা হয়েছে।
এই ঘটনার পর আঞ্চলিক কূটনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ভারত সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
কসমিক ডেস্ক