দেশের ক্রীড়া খাতকে আরও গতিশীল করতে এবং তরুণ প্রতিভা বিকাশে বড় ধরনের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার। প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচির জন্য প্রায় ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে Jatiya Sangsad-এ বাজেট উপস্থাপনের সময় এ ঘোষণা দিতে পারেন অর্থমন্ত্রী Amir Khasru Mahmud Chowdhury। এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে দেশের কিশোর-কিশোরীদের ক্রীড়া চর্চায় একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ইতোমধ্যে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হচ্ছে ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী প্রতিভাবান ক্রীড়া শিক্ষার্থীদের খুঁজে বের করে তাদের প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা। এ উদ্যোগের মাধ্যমে ভবিষ্যতের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড় তৈরি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এই কর্মসূচির আওতায় মোট ৮টি খেলা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে—ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, অ্যাথলেটিক্স, ব্যাডমিন্টন, দাবা, সাঁতার এবং মার্শাল আর্ট। প্রতিটি শিক্ষার্থীকে অন্তত একটি খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পর্যায়ে নিয়মিত প্রতিযোগিতা ও টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে সারা দেশ থেকে বিপুল সংখ্যক কিশোর-কিশোরী এই কর্মসূচিতে নিবন্ধন করেছে। মোট ১ লাখ ৬৮ হাজার ৬২২ জন খেলোয়াড় এতে অংশগ্রহণের জন্য নাম লিখিয়েছে, যার মধ্যে ১ লাখ ২১ হাজার ৪৯২ জন কিশোর এবং ৪৭ হাজার ১৩০ জন কিশোরী রয়েছে। এই বিপুল অংশগ্রহণ দেশের তরুণদের মধ্যে ক্রীড়ার প্রতি আগ্রহের একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করে।
এই বিপুল সংখ্যক অংশগ্রহণকারীকে প্রশিক্ষণ, সরঞ্জাম, ভাতা এবং অন্যান্য সুবিধা দিতে একটি বড় বাজেট প্রয়োজন। সেই প্রয়োজন বিবেচনা করেই আগামী অর্থবছরের বাজেটে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের উদ্যোগ দেশের ক্রীড়া খাতে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ছোট বয়স থেকেই প্রতিভা শনাক্ত করে সঠিক প্রশিক্ষণ দিলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সাফল্য বাড়বে। পাশাপাশি এটি তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এছাড়া, নিয়মিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনের মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব গড়ে তোলা এবং মাদক ও অপরাধ থেকে তরুণ সমাজকে দূরে রাখার ক্ষেত্রেও এই কর্মসূচি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
সব মিলিয়ে, নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস কর্মসূচির জন্য ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দের এই প্রস্তাব দেশের ক্রীড়া উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এখন দেখা যাচ্ছে, জাতীয় বাজেটে এ প্রস্তাব চূড়ান্তভাবে অন্তর্ভুক্ত হয় কিনা এবং বাস্তবায়নের মাধ্যমে কতটা ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়।
কসমিক ডেস্ক