মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সম্ভাব্য এই অভিযান চলতি বছরের শুরুতে পরিচালিত ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র চেয়েও বড় হতে পারে।
অ্যাক্সিওসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে একটি বড় হামলার বিষয়ে ভাবছেন এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন। তার ভাষায়, “আমি খুব বড় একটি হামলার কথা ভাবছি, আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বড়। আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত।” তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দুই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত সামরিক বাহিনীকে নতুন কোনো অভিযানের জন্য আনুষ্ঠানিক নির্দেশ দেওয়া হয়নি। অর্থাৎ পরিস্থিতি এখনও পরিকল্পনা ও মূল্যায়নের পর্যায়ে রয়েছে।
ট্রাম্প আরও ইঙ্গিত দেন, প্রয়োজন হলে ইসরায়েলি বাহিনী এই অভিযানে যুক্ত হতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এককভাবেও এই ধরনের পদক্ষেপ নিতে সক্ষম বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরান আলোচনায় বসার আগ্রহ দেখালেও সর্বশেষ প্রস্তাবে সম্মতি দেয়নি। ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান এখনো যথেষ্ট চাপ অনুভব করেনি।
এর আগে ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প ইরানকে কঠোর সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, হুথি বাহিনী যদি লোহিত সাগরে আবার হামলা চালায়, তবে এর জন্য সরাসরি তেহরানকে দায়ী করা হবে এবং কঠোর সামরিক শাস্তি দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানের পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। এর জবাবে ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে। যদিও পরবর্তীতে একটি সমঝোতার মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা হয়, তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে আবারও সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে।
সব মিলিয়ে, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নতুন সামরিক পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
কসমিক ডেস্ক