যশোরের অভয়নগর উপজেলায় অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে ট্রেনের ধাক্কায় এক ট্রাকচালকের মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় ট্রাকের সহকারী গুরুতর আহত হয়েছেন।
নিহত ট্রাকচালকের নাম Monowar Hossain (৩৩)। তিনি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার রায়গ্রাম ইউনিয়নের আড়পাড়া গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে। আহত সহকারী Raihan বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
রবিবার (১০ মে) দুপুরে উপজেলার ভাঙ্গাগেট মশরহাটী গ্রামে আকিজ রিসোর্সের কয়লার ডিপোর সামনে যশোর-খুলনা রেললাইনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত রায়হানের বরাতে জানা যায়, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ট্রাকটি কয়লা লোড করতে ডিপোর দিকে যাচ্ছিল। পথে অরক্ষিত রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় হঠাৎ যশোরগামী ট্রেনের ধাক্কায় ট্রাকটি উল্টে যায় এবং দুমড়ে-মুচড়ে যায়।
ধাক্কার তীব্রতায় ট্রাকচালক মনোয়ার হোসেন যানবাহন থেকে ছিটকে রেললাইনে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। সহকারী রায়হান গুরুতর আহত হন এবং পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে Abhaynagar Upazila Health Complex-এ ভর্তি করেন।
স্থানীয়দের মতে, রেলক্রসিংটি দীর্ঘদিন ধরে অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। কোনো গেটম্যান বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় প্রায়ই ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করতে হয়।
একজন স্থানীয় ট্রাকচালক শ্রমিক নেতা নূর শেখ বলেন, কয়লার ডিপোতে প্রবেশের জন্য রেললাইন পার হওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। তিনি অবিলম্বে রেলক্রসিংটি নিরাপদ করার দাবি জানান।
ঘটনার পর রেললাইন এলাকায় প্রায় এক ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার ট্রেন চলাচল শুরু হয়।
নওয়াপাড়া রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার Yasir Arafat জানান, দুর্ঘটনার পর দ্রুত মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যশোরগামী মহানন্দা এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। তবে বর্তমানে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
Bangladesh Railway–এর আওতাধীন এই রুটটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ রেলপথগুলোর একটি হলেও অনেক স্থানে অরক্ষিত ক্রসিং থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকে যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অরক্ষিত রেলক্রসিং দেশের রেল ও সড়ক নিরাপত্তার একটি বড় সমস্যা। সচেতনতা বৃদ্ধি, গেটম্যান নিয়োগ এবং প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করা হলে এমন দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
সব মিলিয়ে, যশোরের এই দুর্ঘটনা আবারও অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ের ঝুঁকিকে সামনে নিয়ে এসেছে, যা দ্রুত সমাধান না হলে ভবিষ্যতে আরও প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।
কসমিক ডেস্ক