ইউরোপের রাজপরিবার ঘিরে আবারও বড় ধরনের নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এবার লক্ষ্যবস্তু ছিলেন নেদারল্যান্ডসের রাজকুমারী ক্যাথারিনা আমালিয়া এবং তার ছোট বোন রাজকুমারী অ্যালেক্সিয়া অব নেদারল্যান্ডস। তাদের হত্যার পরিকল্পনার অভিযোগে ৩৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ।
ঘটনাটি ঘটেছে নেদারল্যান্ডসের পশ্চিম উপকূলীয় শহর হেগ-এ। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গত ফেব্রুয়ারিতে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি রাজকুমারীদের ওপর হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন এবং সে অনুযায়ী কিছু প্রস্তুতিও নিয়েছিলেন।
তল্লাশির সময় তার কাছ থেকে দুটি কুঠার উদ্ধার করা হয়। এসব অস্ত্রে বিভিন্ন নাম ও প্রতীক খোদাই করা ছিল, যার মধ্যে “অ্যালেক্সিয়া”, “আমালিয়া”, “মোসাদ” এবং নাৎসি স্লোগান “সিগ হাইল”-এর উল্লেখ পাওয়া যায়। এছাড়া তার শরীরে “রক্তস্নান” লেখা ছিল বলেও জানা গেছে, যা তদন্তকারীদের কাছে উদ্বেগজনক ইঙ্গিত হিসেবে ধরা হয়েছে।
তবে এই পরিকল্পনার প্রকৃত উদ্দেশ্য এখনো পরিষ্কার নয়। পুলিশ বলছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি মানসিকভাবে স্থিতিশীল ছিলেন কি না এবং তিনি একা কাজ করছিলেন নাকি কারও প্ররোচনায়—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নেদারল্যান্ডসের রাজপরিবার, বিশেষ করে রাজকুমারী আমালিয়া দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তা হুমকির মধ্যে আছেন। এর আগেও একাধিকবার তাকে লক্ষ্য করে হুমকি এসেছে। ২০২০ সালে সহিংসতা ও অপহরণের হুমকির পর তাকে নিরাপত্তার কারণে আত্মগোপনে যেতে হয়।
পরবর্তীতে ২০২২ সালে নিরাপত্তাজনিত কারণে তাকে আমস্টারডামের ছাত্রাবাস ছাড়তে হয় এবং হেগের রাজপ্রাসাদে স্থানান্তর করা হয়। এমনকি এক পর্যায়ে মাদকের আন্তর্জাতিক চক্রের সম্ভাব্য অপহরণ পরিকল্পনার আশঙ্কায় তিনি স্পেনের মাদ্রিদে অবস্থান করেন।
তৎকালীন সময়ে ইউরোপের কুখ্যাত অপরাধী রিদুয়ান তাঘি-এর নামও আলোচনায় আসে, যাকে একাধিক হত্যাকাণ্ডের দায়ে যাবজ্জীবন সাজা দেওয়া হয়েছে। যদিও তিনি রাজপরিবারকে লক্ষ্য করে কোনো ষড়যন্ত্রের অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার পর ২০২৪ সালে আমালিয়া আবার নেদারল্যান্ডসে ফিরে আসেন। তবে তিনি নিজেই জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময়ের এই নিরাপত্তা সীমাবদ্ধতা তার স্বাভাবিক জীবন ও শিক্ষাজীবনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে।
ডাচ রাজপরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ নতুন কিছু নয়। বিশেষ করে রাজা উইলেম-আলেকজান্ডার এবং তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা সবসময়ই উচ্চ সতর্কতায় থাকে।
সাম্প্রতিক ঘটনায় আবারও স্পষ্ট হয়েছে যে ইউরোপের রাজপরিবারগুলো এখনও বিভিন্ন ধরনের হুমকির মধ্যে রয়েছে। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়া, উগ্রবাদ এবং ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে উদ্ভূত সহিংসতা নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রাথমিক শুনানি শিগগিরই আদালতে অনুষ্ঠিত হবে। তদন্তকারীরা এখন তার অতীত, মানসিক অবস্থা এবং সম্ভাব্য যোগাযোগ নেটওয়ার্ক বিশ্লেষণ করছেন।
সব মিলিয়ে, এই ঘটনা শুধু একটি বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়, বরং ইউরোপে রাজপরিবারগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
কসমিক ডেস্ক