তিস্তা নদীকে কেন্দ্র করে উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন, অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে বন্যা, নদীভাঙন ও খরার চাপে বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছে। বর্ষায় নদীভাঙন ও বন্যা আর শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট—এই দুই পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে কৃষি উৎপাদন ও জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এই বাস্তবতায় তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে শুধু নদী ব্যবস্থাপনাই নয়, উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা ও সংশ্লিষ্ট মহল।
রংপুর বিভাগের রংপুর বিভাগ অন্তর্ভুক্ত নীলফামারী, রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার মানুষ নদীভাঙন ও দুর্বল সড়ক ব্যবস্থার কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে রয়েছেন। অনেক এলাকায় বর্ষাকালে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, আবার শুষ্ক মৌসুমে বালুচরের ওপর দিয়ে হেঁটে বা সীমিত যানবাহনে চলাচল করতে হয়।
প্রস্তাবিত তিস্তা মহাপরিকল্পনার আওতায় নদী খনন, বাঁধ শক্তিশালীকরণ এবং টেকসই তীররক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে নদীর দুই তীরে স্থায়ী অবকাঠামো তৈরি করা সম্ভব হবে। এতে অনেক সড়ক সারা বছর ব্যবহারযোগ্য থাকবে এবং চরাঞ্চলের মানুষ সহজে বাজার, হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে পারবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী বাঁধগুলোকে উন্নত সড়কে রূপান্তর করা গেলে রংপুর, জলঢাকা, ডালিয়া ও বুড়িমারী স্থলবন্দর পর্যন্ত দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে বুড়িমারী স্থলবন্দর পর্যন্ত নৌ ও সড়ক যোগাযোগ সম্প্রসারণের সম্ভাবনাও তৈরি হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় হ্রাস এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। পাশাপাশি বন্যা ও নদীভাঙনের কারণে প্রতি বছর যে বিপুল অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়, তার একটি বড় অংশ কমানো সম্ভব হবে।
স্থানীয়দের মতে, তিস্তা মহাপরিকল্পনা কেবল একটি অবকাঠামো প্রকল্প নয়; এটি উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবিকা, টিকে থাকা এবং উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত একটি দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা।
কসমিক ডেস্ক