ভারতে অবস্থানরত ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ নাগরিকদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশের সহযোগিতা চেয়েছে ভারত। বৃহস্পতিবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এ বিষয়টি তুলে ধরেন মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।
তিনি বলেন, অবৈধ বাংলাদেশিদের প্রত্যাবাসনের বিষয়টি বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশের সহযোগিতা অপরিহার্য। তাঁর মতে, দুই দেশের মধ্যে সমন্বিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এ ধরনের প্রত্যাবাসন কার্যক্রম কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব।
ব্রিফিংয়ে জয়সওয়াল আরও জানান, বর্তমানে নাগরিকত্ব যাচাই সংক্রান্ত ২৮৬২টিরও বেশি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, এসব মামলার কিছু পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে ঝুলে আছে, যা বিষয়টির জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতাকে নির্দেশ করে।
এছাড়া, সীমান্ত পরিস্থিতি এবং ‘পুশ ব্যাক’ ইস্যু নিয়েও প্রশ্নের মুখে পড়েন তিনি। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী কর্তৃক বাংলাদেশে কিছু ব্যক্তিকে ফেরত পাঠানোর অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা তিনি দেননি।
ব্রিফিংয়ে রাজনৈতিক প্রসঙ্গও উঠে আসে। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের পর ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ওপর এর প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে মূলত প্রত্যাবাসন ও অভিবাসন ইস্যুর দিকেই গুরুত্ব দেন।
ভারতের পক্ষ থেকে এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন সীমান্ত নিরাপত্তা, অবৈধ অভিবাসন এবং দুই দেশের কূটনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী এলাকায় বিভিন্ন সময় অনুপ্রবেশ ও প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত বিষয়গুলো দুই দেশের সম্পর্কের আলোচনায় নিয়মিতভাবে উঠে আসে।
ভারতের বক্তব্য অনুযায়ী, অবৈধভাবে বসবাসরত ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ ও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া পরিচালনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় প্রয়োজন। একই সঙ্গে নাগরিকত্ব যাচাই মামলাগুলোর দীর্ঘসূত্রতা এই প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলছে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
অন্যদিকে, সীমান্তে ‘পুশ ব্যাক’ ইস্যু নিয়ে উভয় দেশের মধ্যে অতীতেও বিভিন্ন সময় মতবিরোধ দেখা গেছে। এ ধরনের ঘটনার অভিযোগ ও পাল্টা ব্যাখ্যা দুই দেশের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও মানবিক দিক নিয়েও আলোচনা সৃষ্টি করে।
সব মিলিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই বক্তব্য বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুকে আবারও সামনে এনেছে, যেখানে অভিবাসন, নাগরিকত্ব যাচাই এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনা—সব মিলিয়ে একটি জটিল কূটনৈতিক বাস্তবতা বিদ্যমান।
কসমিক ডেস্ক