যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে ইউক্রেনজুড়ে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে Russia। মঙ্গলবার বিকেলে চালানো এই হামলায় অন্তত ২৬ জন নিহত এবং ৮০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইউক্রেনের কর্তৃপক্ষ। হামলার সময়কাল এবং এর মাত্রা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া গ্লাইড বোমা ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে হামলা চালায়। এর মধ্যে Kramatorsk, Zaporizhzhia এবং Chernihiv উল্লেখযোগ্য।
সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটে জাপোরিঝিয়ায়, যেখানে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া ক্রামাতোরস্ক ও Dnipro শহরে ৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে Poltava এবং Kharkiv অঞ্চলে রাষ্ট্রীয় গ্যাস স্থাপনায় হামলায় ৫ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৩ জন কর্মচারী এবং ২ জন উদ্ধারকর্মী রয়েছেন।
এই হামলার ফলে অবকাঠামোগত ক্ষতিও ব্যাপক হয়েছে। গ্যাস স্থাপনায় হামলার কারণে প্রায় ৩,৫০০ গ্রাহকের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য নতুন সংকট তৈরি করেছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট Volodymyr Zelenskyy রাশিয়ার এই পদক্ষেপকে “চরম ধৃষ্টতা” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলেন, ইউক্রেন নির্ধারিত সময় অনুযায়ী যুদ্ধবিরতি পালন করবে, তবে রাশিয়ার যেকোনো আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।
অন্যদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট Vladimir Putin শুক্রবার ও শনিবারের জন্য যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই ঘোষণার পরপরই ইউক্রেনে ১১টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১৬৪টি ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা বাহিনী নিয়মিতভাবে রুশ ড্রোন ভূপাতিত করতে সক্ষম হলেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে তারা এখনও চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি আবারও পশ্চিমা মিত্রদের কাছে উন্নত ‘প্যাট্রিয়ট’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির আগে এই ধরনের হামলা চালানো কৌশলগত চাপ সৃষ্টির একটি অংশ হতে পারে। এতে প্রতিপক্ষকে দুর্বল করা এবং আলোচনার টেবিলে সুবিধাজনক অবস্থান তৈরি করার চেষ্টা করা হয়।
এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বিশেষ করে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ক্ষতি পরিস্থিতিকে মানবিক সংকটে রূপ দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, যুদ্ধবিরতির ঘোষণার আগেই এই হামলা রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। এখন দেখার বিষয়, ঘোষিত যুদ্ধবিরতি বাস্তবে কতটা কার্যকর হয় এবং উভয় পক্ষ পরিস্থিতি শান্ত করতে কী পদক্ষেপ নেয়।
কসমিক ডেস্ক