রংপুরের পীরগঞ্জে সেচ ঘরে কৃষকের লাশ উদ্ধার The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

রংপুরের পীরগঞ্জে সেচ ঘরে কৃষকের লাশ উদ্ধার

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 7, 2026 ইং
রংপুরের পীরগঞ্জে সেচ ঘরে কৃষকের লাশ উদ্ধার ছবির ক্যাপশন:

রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলা-তে এক মর্মান্তিক ও রহস্যজনক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার বড় আলমপুর ইউনিয়নের উমরপুর এলাকায় একটি সেচ ঘর থেকে মফিজার রহমান নামে এক কৃষকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে স্থানীয়রা মরদেহটি দেখতে পান। নিহত মফিজার রহমান স্থানীয় সেচ মেশিনের মালিক মো. আমজাদ আলীর ছেলে বলে জানা গেছে। তিনি রাতে মাঠের বিএডিসি সেচ ট্রান্সমিটার পাহারার দায়িত্বে ছিলেন।

পারিবারিক সূত্র ও স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বুধবার দিবাগত রাতে মফিজার উমরপুর মাঠের সেচ ঘরে পাহারার জন্য যান। তবে সকালে এক কৃষক গরু নিয়ে মাঠে গেলে সেচ ঘরের দরজা খোলা অবস্থায় দেখতে পান এবং ট্রান্সমিটার খুলে নেওয়া ছিল।

পরবর্তীতে তিনি ঘরের ভেতরে প্রবেশ করলে মফিজারের পা বাঁধা রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে এবং পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

স্থানীয়দের ধারণা, গভীর রাতে একটি চোর চক্র সেচ ট্রান্সমিটার চুরি করতে আসে। এ সময় পাহারারত মফিজার বাধা দিলে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হতে পারে। এরপর চোরেরা ট্রান্সমিটার নিয়ে পালিয়ে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। এলাকাজুড়ে এ ঘটনায় আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল হক জানান, ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হলেও তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।

এ ঘটনায় এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কৃষকদের দাবি, মাঠে থাকা সেচ মেশিন ও ট্রান্সমিটার চুরির ঘটনা দীর্ঘদিন ধরেই ঘটছে, কিন্তু পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় এ ধরনের ঘটনা রোধ করা যাচ্ছে না।

স্থানীয়রা আরও জানান, সেচ ঘরগুলো সাধারণত নির্জন এলাকায় থাকে, যার কারণে রাতে চোর চক্র সহজেই এসব জায়গায় প্রবেশ করতে পারে। ফলে কৃষকদের জীবনের নিরাপত্তাও ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, গ্রামীণ অবকাঠামো ও কৃষি যন্ত্রপাতি রক্ষায় আরও শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রয়োজন। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সেচ প্রকল্প এলাকায় নজরদারি বাড়ানো জরুরি।

বর্তমানে পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত করছে এবং আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ ও স্থানীয় তথ্য সংগ্রহ করছে। নিহতের পরিবার এ ঘটনায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

সব মিলিয়ে এই হত্যাকাণ্ড শুধু একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়, বরং গ্রামীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকেও সামনে নিয়ে এসেছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
ইতালিতে শ্রম শোষণ রোধে কঠোর আইন কার্যকর

ইতালিতে শ্রম শোষণ রোধে কঠোর আইন কার্যকর