রমজানের শেষ দশকে ময়মনসিংহে একসঙ্গে ৮৫০ মুসল্লির ইতিকাফ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

রমজানের শেষ দশকে ময়মনসিংহে একসঙ্গে ৮৫০ মুসল্লির ইতিকাফ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Mar 15, 2026 ইং
রমজানের শেষ দশকে ময়মনসিংহে একসঙ্গে ৮৫০ মুসল্লির ইতিকাফ ছবির ক্যাপশন:

রমজান মাসের শেষ দশকে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে ইতিকাফ পালন মুসলমানদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। সাধারণত কোনো মহল্লা থেকে অন্তত একজন ব্যক্তি ইতিকাফে বসলেই তা সবার পক্ষ থেকে আদায় হয়ে যায়। তবে ময়মনসিংহের একটি মসজিদে এ ক্ষেত্রে দেখা গেছে ব্যতিক্রমী দৃশ্য।

ময়মনসিংহের খানকায়ে হোসাইনিয়া মাদানিয়া মাদরাসা মসজিদে একসঙ্গে প্রায় ৮৫০ জন মুসল্লি ইতিকাফে বসেছেন। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

শনিবার (১৪ মার্চ) সন্ধ্যার পর খানকায়ে হোসাইনিয়া মাদানিয়া মাদরাসা মসজিদের খতিব মুফতী মাহবুবুল্লাহ কাসেমী বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে আধ্যাত্মিক সাধনা ও মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানটি ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।

তিনি বলেন, ২০১২ সালে কুতুবে আলম শাইখুল ইসলাম হোসাইন আহমদ মাদানী (রহ.)–এর খলিফা শায়খ আব্দুল মুমিন (রহ.)–এর মাধ্যমে এই খানকার প্রতিষ্ঠা করা হয়।

প্রতি বছরের মতো চলতি বছরও রমজানকে কেন্দ্র করে এখানে ব্যাপক আমল ও ইবাদতের পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি।

মুফতী মাহবুবুল্লাহ কাসেমী বলেন, রমজানের প্রায় ১০ দিন আগে থেকেই এখানে ৪০ দিনের চিল্লার আমল শুরু হয়।

তিনি জানান, ২০২৬ সালে রমজানের প্রায় ১০ দিন আগে প্রায় ১২৫ জন মুসল্লি ইতিকাফে বসেন। পরে পহেলা রমজান থেকে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২২৫ জনে।

রমজানের শেষ দশকে এসে সেই সংখ্যা আরও বেড়ে প্রায় ৮৫০ জনের বেশি মুসল্লিতে পৌঁছেছে।

তিনি আরও জানান, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা এখানে এসে ইতিকাফে অংশ নিচ্ছেন।

বিশেষ করে পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, গাইবান্ধা, সৈয়দপুরসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকা থেকে মুসল্লিরা এখানে এসেছেন।

এছাড়া বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, কক্সবাজার, সেন্ট মার্টিন, সিলেট, সুনামগঞ্জ, গাজীপুর ও ঢাকা থেকেও অনেক মুসল্লি ইতিকাফে অংশ নিচ্ছেন।

মসজিদ ও খানকা এলাকায় এখন ইবাদত ও আমলের মাধ্যমে আধ্যাত্মিক পরিবেশ বিরাজ করছে।

খানকায়ে হোসাইনিয়া মাদানিয়া শুধু ধর্মীয় কর্মকাণ্ডেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিষ্ঠানটি দেশ-বিদেশে বিভিন্ন মানবিক সহায়তা কার্যক্রমও পরিচালনা করে থাকে।

এর মধ্যে রয়েছে ফিলিস্তিনে নির্যাতিত মুসলমানদের জন্য ইফতার ও খাদ্য বিতরণ কর্মসূচি।

এছাড়া ভারতে দাঙ্গায় ক্ষতিগ্রস্ত মুসলমানদের আর্থিক সহায়তা ও চিকিৎসা সহায়তাও দেওয়া হয়েছে।

দেশের বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ও প্রতিষ্ঠানটি মানবিক সহায়তা প্রদান করেছে।

২০২২ সালে সিলেটের বন্যায় প্রায় ২৬ লাখ টাকার ত্রাণ বিতরণ করা হয়।

এছাড়া ২০২৪ সালে নোয়াখালী, ফেনী ও কুমিল্লায় বন্যাকবলিত মানুষের জন্য ৬৬ লাখ টাকার বেশি ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে।

খানকার তত্ত্বাবধানে বর্তমানে ২০০ জনের বেশি নও-মুসলিম দায়িত্বে রয়েছেন।

এছাড়া ৫৫ জনের বেশি এতিম ও অসহায় শিশুর চিকিৎসা, খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয় বহন করা হচ্ছে।

পাশাপাশি ২০০ জনের বেশি অসহায় শিক্ষার্থীর খাবারের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।

খানকায়ে হোসাইনিয়া মাদানিয়া মাদরাসা মসজিদের খতিব মুফতী মাহবুবুল্লাহ কাসেমী বলেন, ইতিকাফে বসা মুসল্লিদের নিয়মিত খাবারের ব্যবস্থা করা হয় খানকা ও স্থানীয় এলাকাবাসীর সহযোগিতায়।

তিনি বলেন, মানুষের নৈতিক উন্নয়ন, উন্নত চরিত্র গঠন এবং আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
মহেশপুর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক আহত

মহেশপুর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক আহত