একটি প্রমোদতরী MV Hondius-এ ছড়িয়ে পড়া সংক্রমণে নতুন করে তৃতীয় ব্রিটিশ নাগরিক Hantavirus-এ আক্রান্ত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। আক্রান্ত ব্যক্তি বর্তমানে দক্ষিণ আটলান্টিকের দূরবর্তী দ্বীপ Tristan da Cunha-এ অবস্থান করছেন এবং চিকিৎসাধীন আছেন।
এর আগে একই জাহাজে থাকা আরও দুই ব্রিটিশ পুরুষের শরীরে হান্টাভাইরাস শনাক্ত হয়। তাদের একজনকে নেদারল্যান্ডসে নেওয়া হয়েছে এবং তিনি স্থিতিশীল আছেন। অপরজনকে দক্ষিণ আফ্রিকায় চিকিৎসার জন্য স্থানান্তর করা হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে আইসিইউতে থাকলেও অবস্থার উন্নতি হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এ পর্যন্ত জাহাজটিতে তিনজন যাত্রীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। পাশাপাশি মোট পাঁচজনের হান্টাভাইরাসে সংক্রমণ নিশ্চিত করা হয়েছে। জাহাজটি বর্তমানে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, যেখানে বিশেষ ব্যবস্থায় যাত্রীদের নিরাপদে দেশে ফেরানোর প্রস্তুতি চলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হান্টাভাইরাস সাধারণত ইঁদুর বা ছুঁচো জাতীয় প্রাণীর মাধ্যমে ছড়ায়। সংক্রমিত প্রাণীর মল, প্রস্রাব বা লালার সংস্পর্শে এলে মানুষ আক্রান্ত হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে দীর্ঘসময় খুব কাছাকাছি সংস্পর্শে থাকলে মানুষের মধ্যেও ছড়াতে পারে, তবে এটি খুবই বিরল।
আক্রান্তদের মধ্যে জ্বর, ক্লান্তি, পেটব্যথা, বমি এবং গুরুতর ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। সাধারণত সংক্রমণের ২ থেকে ৪ সপ্তাহ পর লক্ষণ প্রকাশ পায়।
যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো জানিয়েছে, সাধারণ সামাজিক মেলামেশা বা স্বাভাবিক যোগাযোগে এই ভাইরাস ছড়ায় না। ফলে সাধারণ জনগণের জন্য ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) পরিস্থিতিকে গুরুতর হিসেবে চিহ্নিত করলেও এটিকে কোভিড-১৯ মহামারীর মতো বিস্তৃত হুমকি হিসেবে দেখছে না। সংস্থার মতে, এটি একটি সীমিত ও নির্দিষ্ট পরিবেশে ছড়ানো সংক্রমণ, যা দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
ঘটনার সূত্রপাত হয় ৪ মে, যখন প্রথম আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হন। এরপর জাহাজে থাকা যাত্রী ও ক্রুদের মধ্যে নজরদারি বাড়ানো হয় এবং সংক্রমিতদের আলাদা করা শুরু হয়।
২৪ এপ্রিল কিছু যাত্রী সেন্ট হেলেনা দ্বীপে নামার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। ওই যাত্রীদের মধ্যেও কয়েকজনকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস, সুইজারল্যান্ডসহ কয়েকটি দেশে সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের খোঁজে কন্টাক্ট ট্রেসিং চলছে।
জাহাজ পরিচালনাকারী সংস্থা জানিয়েছে, তারা আক্রান্তদের শনাক্ত হওয়ার পরপরই সংশ্লিষ্ট সব যাত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রে প্রমোদতরীর মতো বন্ধ পরিবেশ ঝুঁকি বাড়াতে পারে, কারণ সেখানে মানুষ দীর্ঘ সময় কাছাকাছি থাকে। তবে এটি সাধারণ জনসমাজে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা খুব কম।
বর্তমানে ব্রিটিশ স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দেশে ফেরার পর আক্রান্ত বা ঝুঁকিতে থাকা যাত্রীদের ৪৫ দিন পর্যন্ত আইসোলেশনে রাখা হতে পারে। পাশাপাশি উপসর্গ পর্যবেক্ষণ অব্যাহত থাকবে।
সব মিলিয়ে, পরিস্থিতি নজরদারিতে থাকলেও বিশেষজ্ঞদের মতে সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই, তবে সতর্কতা ও স্বাস্থ্য নির্দেশনা মেনে চলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
কসমিক ডেস্ক