আফ্রিকার যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ সুদানে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে খার্তুম বিমানবন্দরে সাম্প্রতিক হামলাকে ঘিরে। দেশটির সরকার দাবি করেছে, এই হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সম্পৃক্ততা রয়েছে। তবে অভিযোগটি সরাসরি অস্বীকার করেছে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী এই দেশটি।
সুদানের সামরিক বাহিনীর দাবি অনুযায়ী, খার্তুম বিমানবন্দরে হামলাটি চালানো হয়েছে ড্রোন ব্যবহার করে, যা ইথিওপিয়া থেকে উড্ডয়ন করেছিল এবং সেটি আমিরাতের মালিকানাধীন। তারা এ সংক্রান্ত কিছু ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেছে বলেও জানিয়েছে। এসব তথ্যে দেখা গেছে বলে দাবি করা হয় যে হামলার পেছনে বিদেশি সহায়তা রয়েছে।
তবে ইউএই এক বিবৃতিতে এসব অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘ভুল’ বলে উল্লেখ করেছে। দেশটি জানায়, তারা সুদানের অভ্যন্তরীণ সংঘাতে কোনো ধরনের সামরিক হামলা বা সরাসরি অংশগ্রহণ করছে না। বরং তারা দীর্ঘদিন ধরে সুদানের স্থিতিশীলতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার পক্ষে কাজ করছে।
সুদানের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল ও রক্তক্ষয়ী। দেশটিতে সরকারি সেনাবাহিনী এবং আধাসামরিক বাহিনী Rapid Support Forces (RSF)-এর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সংঘর্ষ চলছে। এই সংঘাতে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে এবং লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল বারবার এই সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানালেও এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সমাধান আসেনি।
সুদান সরকার দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে, ইউএই গোপনে RSF-কে সমর্থন দিয়ে আসছে। তাদের দাবি, এই সহায়তার মধ্যে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে ইউএই বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে এবং নিজেদের নিরপেক্ষ অবস্থানের কথা বলছে।
এই সাম্প্রতিক হামলার ঘটনাটি সেই পুরনো অভিযোগকে আবার সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। কারণ আধুনিক যুদ্ধে ড্রোনের ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এর মাধ্যমে দূর থেকে হামলা চালানো সহজ হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, সুদানের দাবি করা তথ্যগুলো এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে প্রকাশিত ভিডিও বা ছবিগুলোর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। ফলে বিষয়টি এখনো পুরোপুরি নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ধরনের অভিযোগ ও পাল্টা অস্বীকার পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এতে করে কূটনৈতিক সম্পর্কেও টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।
মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার ভূরাজনীতিতে সুদান একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। তাই দেশটির অভ্যন্তরীণ সংঘাত আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কোনো বাহ্যিক শক্তির সম্পৃক্ততার অভিযোগ সামনে এলে তা স্বাভাবিকভাবেই বিশ্ব রাজনীতিতে আলোচনার জন্ম দেয়।
সব মিলিয়ে, খার্তুম বিমানবন্দরে হামলার ঘটনাটি শুধু একটি সামরিক ঘটনা নয়, বরং এটি বৃহত্তর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সংকটের অংশ হয়ে উঠছে। অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত না হলেও, এই ইস্যুতে আন্তর্জাতিক মহলের নজর এখন আরও বেশি করে সুদানের দিকে।
কসমিক ডেস্ক