টঙ্গীর বস্তিতে গুপ্ত সুড়ঙ্গ ও বিলাসী কক্ষ, মাদকবিরোধী অভিযানে চাঞ্চল্য The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

টঙ্গীর বস্তিতে গুপ্ত সুড়ঙ্গ ও বিলাসী কক্ষ, মাদকবিরোধী অভিযানে চাঞ্চল্য

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 5, 2026 ইং
টঙ্গীর বস্তিতে গুপ্ত সুড়ঙ্গ ও বিলাসী কক্ষ, মাদকবিরোধী অভিযানে চাঞ্চল্য ছবির ক্যাপশন:

রাজধানীর পাশের শিল্পাঞ্চল টঙ্গীতে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। স্থানীয় হাজী মাজার বস্তিসহ কয়েকটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ একাধিক সুড়ঙ্গপথ ও বিলাসবহুল শীতাতপনিয়ন্ত্রিত (এসি) কক্ষের সন্ধান পেয়েছে, যা মূলত মাদক ব্যবসার গোপন আস্তানা হিসেবে ব্যবহৃত হতো বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (৫ মে) সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত পরিচালিত এই অভিযানে প্রায় ৫০ জনকে আটক করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, এটি ছিল একটি ধারাবাহিক মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ, যার লক্ষ্য ছিল দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকা অপরাধচক্রগুলোকে ভেঙে দেওয়া।

পুলিশ জানায়, অভিযানের সময় বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় দুই কেজি গাঁজা, হেরোইনসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় ছিল—বস্তির ভেতরে তৈরি করা বিলাসবহুল কক্ষগুলো। সাধারণ বস্তির পরিবেশের সঙ্গে একেবারেই বেমানান এই কক্ষগুলোতে ছিল এসি, উন্নত আসবাবপত্র এবং নিরাপত্তার বিশেষ ব্যবস্থা। এসব কক্ষের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল একাধিক গোপন সুড়ঙ্গপথ, যা দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার জন্য কিংবা নজর এড়াতে ব্যবহার করা হতো বলে ধারণা করছে পুলিশ।

অভিযান চলাকালে বাইরে থেকে তালাবদ্ধ বেশ কয়েকটি কক্ষের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করা হয়। সেখানে মাদক সেবনের বিভিন্ন আলামত, সরঞ্জাম এবং মজুত রাখা মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়। এরপর এসব কক্ষ সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি)-এর কর্মকর্তারা জানান, এই বস্তিটি দীর্ঘদিন ধরেই মাদক কারবারিদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। সুড়ঙ্গপথের মাধ্যমে তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে চলাফেরা করত।

টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি মো. আরিফুর রহমান জানান, তাদের অভিযানে ৩৩ জনকে আটক করা হয়েছে এবং প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি মেহেদী হাসান ১৬ জনকে আটক করার কথা নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকেও একজনকে গাঁজাসহ আটক করা হয়েছে।

অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া জিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, “মাদক পুরোপুরি নির্মূলে আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছি। আজ যে কক্ষগুলো পাওয়া গেছে, সেগুলো মাদক বিক্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এগুলো সিলগালা করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান চলবে।”

স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই জানিয়েছেন, বস্তির ভেতরে এমন গোপন অবকাঠামোর অস্তিত্ব সম্পর্কে তারা অবগত ছিলেন না। তবে কিছু লোকের অস্বাভাবিক চলাফেরা এবং রাতের বেলা সন্দেহজনক কার্যক্রম নিয়ে তাদের মধ্যে আগে থেকেই উদ্বেগ ছিল।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের সুড়ঙ্গপথ ও বিলাসবহুল কক্ষের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, মাদক ব্যবসা এখন শুধু রাস্তার পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়—এটি সংগঠিত ও পরিকল্পিত অপরাধচক্রের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, এই অভিযান শুধু শুরু। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে অভিযান চালিয়ে মাদক সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

সব মিলিয়ে, গাজীপুর অঞ্চলের এই ঘটনা দেশের মাদকবিরোধী অভিযানে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সুড়ঙ্গপথ ও বিলাসবহুল কক্ষের এই সন্ধান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য যেমন একটি বড় সাফল্য, তেমনি সমাজের জন্য একটি সতর্কবার্তাও বটে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
নিয়োগের নামে টাকা দাবি, অভিযোগ সহকারী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে

নিয়োগের নামে টাকা দাবি, অভিযোগ সহকারী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে