ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় একটি মাছের খামারে বিষপ্রয়োগের মাধ্যমে ব্যাপক ক্ষতির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার নুরুল্লাগঞ্জ ইউনিয়নের উত্তর আকনবাড়িয়া গ্রামে একটি পুকুরে বিষ দিয়ে প্রায় ৪০ লাখ টাকার মাছ নিধন করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন চাষি আনোয়ার মাতুব্বর।
ঘটনাটি ঘটে গত মঙ্গলবার (৫ মে) দিবাগত রাতে। বুধবার সকালে পুকুরে গিয়ে তিনি দেখেন, সব মাছ মরে পানির ওপর ভেসে আছে। এতে তিনি ও তার পরিবার চরমভাবে হতাশ ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আনোয়ার মাতুব্বর প্রায় সাড়ে তিন বিঘা জমির ওপর খনন করা পুকুরে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করে আসছিলেন। তার এই মাছের খামার ছিল এলাকার অন্যতম একটি সফল উদ্যোগ।
চাষি আনোয়ার মাতুব্বর অভিযোগ করে বলেন, রাতের অন্ধকারে অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা তার পুকুরে বিষ ঢেলে দেয়। সকালে গিয়ে তিনি দেখতে পান পুরো পুকুরে হাজার হাজার মাছ মারা গেছে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও বিনিয়োগে গড়ে তোলা খামার এক রাতেই ধ্বংস হয়ে গেছে। এতে তার প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এখন তিনি আর্থিকভাবে চরম সংকটে পড়েছেন।
ঘটনার পর বিষয়টি তিনি স্থানীয় মৎস্য কর্মকর্তা ও ভাঙ্গা থানায় অবহিত করেছেন বলে জানান।
ভাঙ্গা উপজেলা অতিরিক্ত মৎস্য কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত চাষি তার কাছে এসেছিলেন এবং তাকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এর তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. মাসুদ মাতুব্বর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, পুকুরে মাছ নিধনের ঘটনাটি সত্য এবং এতে এলাকার অন্যান্য মাছচাষিরাও আতঙ্কে রয়েছেন।
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান জানান, ঘটনাটি তারা শুনেছেন। তবে এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে এই ঘটনার পর এলাকায় মাছচাষিদের মধ্যে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, পরিকল্পিতভাবে এই ধরনের নাশকতা চালানো হতে পারে, যা স্থানীয় মৎস্য খাতের জন্য বড় হুমকি।
স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে নিরাপত্তা জোরদারেরও আহ্বান জানানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে ভাঙ্গার এই ঘটনায় একটি সফল মাছ চাষ প্রকল্প এক রাতেই ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
কসমিক ডেস্ক