কেশবপুরে কালবৈশাখীর তাণ্ডব, ভেঙে পড়ল গাছ-ঘর, আহত ৯ The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

কেশবপুরে কালবৈশাখীর তাণ্ডব, ভেঙে পড়ল গাছ-ঘর, আহত ৯

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Apr 16, 2026 ইং
কেশবপুরে কালবৈশাখীর তাণ্ডব, ভেঙে পড়ল গাছ-ঘর, আহত ৯ ছবির ক্যাপশন:

যশোরের কেশবপুর উপজেলায় হঠাৎ করে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে আকস্মিকভাবে শুরু হওয়া এই ঝড়ে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঝড়ের তাণ্ডবে ফসল, ঘরবাড়ি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় অন্তত ১৫০ বিঘা জমির পাকা ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শিলাবৃষ্টির কারণে ধানের শীষ ভেঙে পড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, যা কৃষকদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করেছে।

ঝড়ের সময় বাতাসের তীব্রতায় শত শত গাছ উপড়ে পড়ে। অনেক এলাকায় রাস্তা বন্ধ হয়ে যায় এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের ভবানীপুর এলাকার একাধিক বাড়ির টিনের চালা উড়ে গেছে। ফলে অনেক পরিবার খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করতে বাধ্য হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা মুহাম্মদ শফির বসতঘরের টিনের চালা উড়ে গিয়ে ঘরের ভেতরের আসবাবপত্র ও মালামাল বৃষ্টিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। এতে তিনি চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে জানান।

ঝড়ে অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন বলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে নেংড়ুহাট এলাকার ১৪ বছর বয়সী মিরাজ হোসেনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানো হয়েছে। এছাড়া মধ্যকুল গ্রামের শিমুল হোসেন (৩০) এবং বাজিতপুর গ্রামের রহিমা খাতুন (৫০) হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

উপজেলার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও ক্ষতির শিকার হয়েছে। মূলগ্রাম দারুল উলুম আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আলা উদ্দিন জানান, হঠাৎ ঝড়ে মাদ্রাসার ছাদের ওপর একটি বড় গাছ ভেঙে পড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর এমন ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় এলাকায় দেখা গেছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, ঝড়ের কারণে অন্তত সাতটি বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে গেছে এবং প্রায় ৩৫টি স্থানে তার ছিঁড়ে গেছে। ফলে পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে দ্রুত কাজ চলছে বলে জানিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।

কেশবপুর পল্লী বিদ্যুতের জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, একাধিক স্থানে একসঙ্গে ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক করতে সময় লাগতে পারে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে। প্রাথমিকভাবে ফসল ও গাছপালার ব্যাপক ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে। বিস্তারিত জরিপ শেষে প্রকৃত ক্ষতির চিত্র জানা যাবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম জানান, আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানো হয়েছে।

সব মিলিয়ে, কেশবপুরে এই কালবৈশাখী ঝড় স্থানীয় কৃষি, অবকাঠামো ও জনজীবনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। দ্রুত পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থা না নিলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
গ্যাস সংকটের কারণে চট্টগ্রামের দুই ইউরিয়া সার কারখানা বন্ধ

গ্যাস সংকটের কারণে চট্টগ্রামের দুই ইউরিয়া সার কারখানা বন্ধ