বিশ্বখ্যাত পপ তারকা Dua Lipa প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান Samsung-এর বিরুদ্ধে ১৫ মিলিয়ন ডলারের মামলা করেছেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১৮৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। অভিযোগ উঠেছে, গায়িকার অনুমতি ছাড়াই তার ছবি ব্যবহার করে টেলিভিশন বিক্রির প্রচারণা চালিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
মার্কিন গণমাধ্যম Variety-এর তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার ক্যালিফোর্নিয়ার সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলায় বলা হয়েছে, ২০২৪ সাল থেকে স্যামসাং তাদের টেলিভিশনের কার্ডবোর্ড প্যাকেজিংয়ে ডুয়া লিপার ছবি ব্যবহার করে আসছিল।
তবে এ বিষয়ে আগে থেকে গায়িকাকে কিছু জানানো হয়নি এবং তার কোনো অনুমতিও নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়, ডুয়া লিপার বৈশ্বিক জনপ্রিয়তা ও ব্র্যান্ডমূল্যকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের চেষ্টা করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
গায়িকার আইনজীবীরা দাবি করেন, ডুয়া লিপার মুখ ব্যবহার করে একটি ভোক্তা পণ্যের বড় ধরনের প্রচারণা চালানো হয়েছে, অথচ এতে তার কোনো সম্মতি বা মতামত ছিল না। তাদের মতে, এটি শুধু ব্যক্তিগত অধিকারের লঙ্ঘন নয়, বরং তার পেশাদার ব্র্যান্ড ইমেজের জন্যও ক্ষতিকর।
মামলার কাগজপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ব্যবহৃত ছবিটি ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় সংগীত আয়োজন Austin City Limits Music Festival-এর ব্যাকস্টেজে তোলা হয়েছিল। ছবিটির কপিরাইটও নিজের বলে দাবি করেছেন ডুয়া লিপা।
এদিকে মামলার সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কয়েকটি মন্তব্যও যুক্ত করা হয়েছে। সেখানে দেখা যায়, অনেক ব্যবহারকারী সত্যিই মনে করেছিলেন ডুয়া লিপা হয়তো ওই টিভি ব্র্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, তিনি মূলত টিভি কিনতে চাননি, কিন্তু বক্সে ডুয়া লিপার ছবি দেখে সেটি কিনে ফেলেছেন। আরেকজন জানান, শুধু ডুয়া লিপার ছবি থাকার কারণেই তিনি ওই ব্র্যান্ডের টিভি কিনতে আগ্রহী হয়েছেন।
মামলায় এসব মন্তব্যকে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। গায়িকার পক্ষের দাবি, এই প্রচারণা সরাসরি ভোক্তাদের কেনার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে।
মামলায় আরও বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে Dua Lipa নিজেকে একটি ‘প্রিমিয়াম গ্লোবাল ব্র্যান্ড’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ফ্যাশন, কসমেটিকস কিংবা প্রযুক্তিপণ্য— যেকোনো ব্র্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আগে তিনি নিজে যাচাই-বাছাই করেন। তাই অনুমতি ছাড়া তার ছবি ব্যবহার করা তার পেশাগত ভাবমূর্তি ও ব্র্যান্ড পরিচয়ের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেও দাবি করা হয়েছে।
কসমিক ডেস্ক