নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া বিএনপি নেতা মো. সালাউদ্দিনকে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে সব পদ থেকে বহিষ্কার করেছে স্থানীয় বিএনপি। মঙ্গলবার (৬ মে) এ সিদ্ধান্তের কথা গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিশ্চিত করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সালাউদ্দিন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির অধীন সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। চাঁদাবাজি, দাঙ্গা-হাঙ্গামা এবং জনশৃঙ্খলা বিনষ্টকারী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে দলীয় সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
দলীয় বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, তার কর্মকাণ্ড বিএনপির নীতি, আদর্শ এবং শৃঙ্খলার পরিপন্থী। তাই দলের ভাবমূর্তি রক্ষার স্বার্থে কঠোর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তির অনুলিপি বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছেও পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে রয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী এবং ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চাঁদা দাবি ও মারধরের অভিযোগে ২৬ এপ্রিল সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয় (মামলা নম্বর-৪৮)। ওই মামলার ভিত্তিতে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে। আদালত পরে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন অভিযোগ ছিল। এর মধ্যে চাঁদাবাজি, হুমকি প্রদান এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ প্রয়োগের মতো অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে একাধিকবার উঠে এসেছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনাটি জানার পর থেকেই বিএনপির স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য এ ধরনের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। এতে একদিকে দলের ভাবমূর্তি রক্ষা হয়, অন্যদিকে নেতাকর্মীদের মধ্যে শৃঙ্খলা বজায় রাখার বার্তাও যায়।
তবে স্থানীয় পর্যায়ে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, এটি দলের একটি সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত, আবার অনেকে বলছেন, অভিযোগগুলো তদন্তসাপেক্ষে আরও যাচাই করা প্রয়োজন ছিল।
সব মিলিয়ে, সিদ্ধিরগঞ্জের এই ঘটনায় স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা নিয়েও আবার প্রশ্ন উঠেছে।
কসমিক ডেস্ক