বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস খাতে সংকটের চিত্র তুলে ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিল্প উদ্যোক্তারা। তাদের মতে, তুলনামূলক কম অর্থসংকটের কারণে বিপুল বিনিয়োগের কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে।
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল অভিযোগ করেছেন, মাত্র ২০০ কোটি টাকার সংকটে হাজার কোটি টাকার টেক্সটাইল কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে এসব কারখানা পুনরায় চালু করার আহ্বান জানান।
রাজধানীর ব্র্যাক ইন সেন্টারে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (CPD) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের উন্নয়ন ভাবনা : নবনির্বাচিত সরকারের স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি অগ্রাধিকার’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
বৈঠকে তিনি জানান, দেশের প্রায় ৩৫০টি গার্মেন্টস কারখানা ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। পাশাপাশি ৫০টির বেশি টেক্সটাইল কারখানাও উৎপাদন বন্ধ করেছে। এসব কারখানার প্রতিটির পেছনে হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ রয়েছে, কিন্তু তুলনামূলক ছোট অঙ্কের অর্থসংকটের কারণে এগুলো টিকিয়ে রাখা যাচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, কেবল ঋণ পুনঃতফসিল বা রিশিডিউল করে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। তার মতে, এটি শুধু সাময়িকভাবে ব্যাংকের হিসাব ঠিক রাখার একটি পদ্ধতি হলেও মূল সমস্যার সমাধান করে না।
শওকত আজিজ রাসেল জোর দিয়ে বলেন, কারখানাগুলোকে পুনরায় সচল করতে হলে পুনঃঅর্থায়নের ব্যবস্থা করতে হবে। অর্থাৎ শুধু সময় বাড়িয়ে দেওয়া নয়, বরং নতুন করে আর্থিক সহায়তা দিয়ে উৎপাদন পুনরুদ্ধারের সুযোগ তৈরি করতে হবে।
তার মতে, শিল্প খাতকে টিকিয়ে রাখতে হলে দ্রুত ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। অন্যথায় নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বিশ্লেষকদের মতে, টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস খাত দেশের রপ্তানি আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস। এই খাতে বড় ধরনের সংকট তৈরি হলে সামগ্রিক অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
সব মিলিয়ে, শিল্প উদ্যোক্তাদের এই উদ্বেগ দেশের অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কসমিক ডেস্ক