নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সেনাবাহিনীর ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা আর বহাল নেই বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার মূল দায়িত্ব পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর ন্যস্ত রয়েছে এবং সেনাবাহিনী কেবল সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি জানান, দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেনাবাহিনী এখন স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে, তবে তাদের পূর্বের মতো ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা নেই।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনী মূলত সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রধান দায়িত্ব এখন পুলিশের মতো অন্যান্য বাহিনীর হাতে রয়েছে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, আগে সেনাবাহিনী কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে গ্রেপ্তারসহ প্রশাসনিক কার্যক্রমে অংশ নিতে পারলেও বর্তমানে তারা সরাসরি সেই ধরনের ক্ষমতা প্রয়োগ করছে না। বরং তারা প্রয়োজন অনুযায়ী নিরাপত্তা ও সহায়তা প্রদান করছে।
ব্রিফিংয়ে তিনি আরও জানান, সরকার শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি নিয়ে কাজ করছে। ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী প্রায় ১ কোটি ৬১ লাখ শিশু ইতোমধ্যে টিকা পেয়েছে, যা মোট লক্ষ্যমাত্রার ৮৯ শতাংশ। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে শতভাগ লক্ষ্য অর্জনের আশা প্রকাশ করেন তিনি।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় টিকা কার্যক্রমে কিছু ঘাটতি হয়েছে কি না—এ বিষয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও তিনি জানান। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন নিয়ে বাংলাদেশের কোনো আনুষ্ঠানিক পর্যবেক্ষণ নেই। এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং সেখানে নির্বাচিত সরকারের সঙ্গেই বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় থাকবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ভারতের কোনো নির্দিষ্ট রাজ্যকে আলাদাভাবে বিবেচনা করে না। দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক সবসময় রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে পরিচালিত হয় এবং ভবিষ্যতেও সেই নীতিই অব্যাহত থাকবে।
সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে চলমান আলোচনার মধ্যে এই বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, নির্বাচনের পর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ধীরে ধীরে স্বাভাবিক প্রশাসনিক কাঠামোতে ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছে সরকার।
কসমিক ডেস্ক