নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় বন্য হাতির আক্রমণে এক তরুণের মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মঙ্গলবার (৫ মে) রাতের এই ঘটনায় নিহত হন প্রান্ত রাংসা (২১), যিনি ভবানীপুর সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা নিপশন নকরেকের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে বোরো ধান কাটা শেষ হয়েছে। কৃষকেরা ধান ঘরে তুললেও ফসল রক্ষায় এখনও রাতের পাহারা অব্যাহত রয়েছে। কারণ, সীমান্তবর্তী বনাঞ্চল থেকে বন্য হাতির পাল প্রায়ই নেমে এসে ক্ষেতের ফসল নষ্ট করছে।
এমন পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে প্রান্ত রাংসা অন্যান্য কৃষকদের সঙ্গে ধানক্ষেত পাহারা দেন। পাহারা শেষে বাড়ি ফেরার পথে তিনি একা হয়ে পড়েন। এ সময় হঠাৎ একটি বন্য হাতির মুখোমুখি হন তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, হাতিটি তাকে দেখামাত্রই তাড়া করে। আতঙ্কিত অবস্থায় তিনি পালানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু হাতিটি তাকে শুঁড় দিয়ে জড়িয়ে ধরে আছড়ে মাটিতে ফেলে দেয়। এরপর পায়ে পিষ্ট করে গুরুতর আহত করে ফেলে।
ঘটনাস্থলেই প্রান্ত রাংসা মারা যান বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয়রা। তার মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের মাতম। নিহতের বাবা নিপশন নকরেক কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তার ছেলে কৃষকদের সঙ্গে ধান পাহারা দিতে গিয়েছিল। অন্যরা আগে বাড়ি ফিরে এলেও সে একা পথে ছিল। সেই সুযোগেই হাতির আক্রমণে তার প্রাণ যায়।
ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা জানান, এই অঞ্চলে প্রায়ই বন্য হাতির উপদ্রব দেখা দেয়। বিশেষ করে ফসল কাটার মৌসুমে হাতির দল বন থেকে বের হয়ে কৃষিজমিতে ঢুকে পড়ে ব্যাপক ক্ষতি করে।
ঘটনার খবর পেয়ে দুর্গাপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, ঘটনাটি তদন্তের জন্য পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে ময়মনসিংহ রেঞ্জের দুর্গাপুর উপজেলা বন কর্মকর্তা মজনু প্রামানিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে এবং নিয়ম অনুযায়ী নিহতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হবে।
উপজেলা প্রশাসনও এ ঘটনায় সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নিহত পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বনাঞ্চল সংকোচন ও খাদ্যের অভাবে বন্য হাতিরা প্রায়ই লোকালয়ে ঢুকে পড়ে, যা মানুষ ও বন্যপ্রাণীর মধ্যে সংঘাত বাড়িয়ে তুলছে। এ ধরনের ঘটনা রোধে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান প্রয়োজন, যার মধ্যে রয়েছে হাতির করিডর সংরক্ষণ এবং স্থানীয়দের জন্য নিরাপদ পাহারার ব্যবস্থা।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোক বিরাজ করছে এবং স্থানীয়রা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রাণহানি আর না ঘটে।
কসমিক ডেস্ক