অর্থনৈতিক কারণে যাতে কোনো শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়, সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট। এরই অংশ হিসেবে ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষে একাদশ ও আলিম প্রথম বর্ষে ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের জন্য দেওয়া হচ্ছে ভর্তি সহায়তা। এই সহায়তার আওতায় উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা এককালীন ৬ হাজার টাকা পাবেন।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই সহায়তা মূলত আর্থিকভাবে অসচ্ছল কিন্তু মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য। যারা অর্থের অভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে হিমশিম খাচ্ছে, তাদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রথমে আবেদন করার শেষ সময় ছিল ৩০ এপ্রিল। তবে শিক্ষার্থীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করে সময় বাড়ানো হয়েছে। নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ৭ মে রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করা যাবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন সম্পন্ন করতে না পারলে পরে আর সুযোগ পাওয়া যাবে না।
এই সহায়তা কর্মসূচির আওতায় দেশের বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের অধীন শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবে। এর মধ্যে রয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর এবং মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর-এর আওতাধীন সরকারি ও বেসরকারি সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।
আবেদন প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক। শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে গিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। আবেদন করার সময় শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত তথ্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিকভাবে প্রদান করতে হবে।
এই সহায়তা শুধু উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়েই সীমাবদ্ধ নয়। শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ৪ হাজার টাকা, উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে ৬ হাজার টাকা এবং স্নাতক ও সমমান পর্যায়ে ৮ হাজার টাকা করে ভর্তি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এ ধরনের আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের স্কুল বা কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে। অনেক ক্ষেত্রে সামান্য অর্থের অভাবে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়। এই সহায়তা তাদের জন্য নতুন আশার আলো হয়ে উঠতে পারে।
তবে আবেদন করার সময় কিছু বিষয় খেয়াল রাখা জরুরি। যেমন—সঠিক তথ্য প্রদান, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড করা এবং সময়সীমার মধ্যে আবেদন সম্পন্ন করা। কোনো ভুল তথ্য দিলে আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ধরনের উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীরা এতে বেশি উপকৃত হবে।
সব মিলিয়ে, এই ভর্তি সহায়তা কর্মসূচি দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যারা এখনো আবেদন করেনি, তাদের দ্রুত আবেদন সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক