আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের পটিয়ায় কোরবানির পশুর পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়। এবার উপজেলায় প্রায় ৬০ হাজার কোরবানিযোগ্য গবাদি পশু প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যেখানে সম্ভাব্য চাহিদা ধরা হয়েছে ৫৭ হাজার ১২০টি। ফলে চাহিদা পূরণের পর প্রায় দুই হাজারের বেশি পশু উদ্বৃত্ত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তুত পশুর মধ্যে রয়েছে ৩৫ হাজার ৩৮৫টি গরু, ৩ হাজার ৮৫০টি মহিষ, ১৬ হাজার ১১০টি ছাগল এবং ৪ হাজার ৩৯০টি ভেড়া। এসব পশু স্থানীয় খামারি ও প্রান্তিক কৃষকদের খামারে লালন-পালন করা হয়েছে।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ জানিয়েছেন, ঈদকে সামনে রেখে খামারিদের প্রশিক্ষণ, টিকাদান, রোগ প্রতিরোধ ও নিরাপদ পশু মোটাতাজাকরণ বিষয়ে বিশেষ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। তার মতে, স্থানীয় উৎপাদন দিয়েই এবারের চাহিদা পূরণ সম্ভব হবে, ফলে বাইরের এলাকা থেকে পশু আনার প্রয়োজন হবে না।
তবে পশুর পর্যাপ্ততা থাকলেও খামারিদের মধ্যে উদ্বেগও রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে গরু চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় অনেকে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। স্থানীয় খামারিরা জানিয়েছেন, রাতের বেলায় চোর ও ডাকাতচক্রের আতঙ্কে তারা ঠিকমতো বিশ্রাম নিতে পারছেন না।
একজন খামারি জানান, মুখোশধারী একদল ডাকাত তার গোয়ালঘরে ঢুকে অস্ত্রের মুখে তাকে জিম্মি করে নগদ টাকা ও চারটি গরু নিয়ে গেছে। এ ধরনের ঘটনায় তারা আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ছেন।
আরেক খামারি বলেন, চুরির আতঙ্কে অনেকেই আগেভাগে গরু বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন, ফলে ন্যায্য দাম থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।
এদিকে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, গরু চুরি রোধে টহল জোরদার করা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে খামারিদের সিসিটিভি ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও খামারিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সব মিলিয়ে পটিয়ায় কোরবানির পশুর পর্যাপ্ততা থাকলেও নিরাপত্তা ইস্যু এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কসমিক ডেস্ক