মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতি এবং পারমাণবিক আলোচনার একটি কাঠামো তৈরিতে এক পাতার সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বুধবার (৬ মে) মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
হোয়াইট হাউসের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয়ে তেহরানের অবস্থান জানতে চায় ওয়াশিংটন। যদিও এখনো কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি, তবে সাম্প্রতিক অগ্রগতিকে সংঘাত শুরুর পর সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রস্তাবিত খসড়া অনুযায়ী, ইরান সাময়িকভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম বন্ধ রাখবে। এর বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে এবং বিদেশে আটকে থাকা ইরানের অর্থ ছাড়ের উদ্যোগ নেবে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ শিথিল করার কথাও আলোচনায় রয়েছে।
খসড়ায় উল্লেখ রয়েছে, প্রথমে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হবে, এরপর ৩০ দিনের নিবিড় আলোচনায় পারমাণবিক কার্যক্রম সীমিত করা, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং সমুদ্রপথ উন্মুক্ত করার বিষয়গুলো চূড়ান্ত করার চেষ্টা করা হবে। আলোচনার সম্ভাব্য স্থান হিসেবে ইসলামাবাদ বা জেনেভার নাম উঠে এসেছে।
তবে এই সমঝোতার অনেক শর্তই ভবিষ্যৎ চূড়ান্ত চুক্তির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। বিশেষ করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখার সময়সীমা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে—যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি সীমাবদ্ধতা চায়, আর ইরান তুলনামূলক স্বল্পমেয়াদি প্রস্তাব দিয়েছে।
খসড়ায় আরও বলা হয়েছে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের জন্য পরিদর্শনের সুযোগ রাখা হতে পারে। উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ধাপে ধাপে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পাশাপাশি ইরানের অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে সহায়তার ইঙ্গিত দিয়েছে। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে পুনরায় অবরোধ বা সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগও রাখছে ওয়াশিংটন।
এ বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, এমন জটিল চুক্তিতে তাড়াহুড়ো না করে স্বচ্ছ কূটনৈতিক সমাধানের দিকে এগোনো প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, আলোচনার সফলতা নির্ভর করবে উভয় পক্ষ কতটা ছাড় দিতে প্রস্তুত, তার ওপর।
কসমিক ডেস্ক