“আমার পেটে লাথি মেরেছে”—মমতার গুরুতর অভিযোগে উত্তাল রাজনীতি The Daily Cosmic Post
ঢাকা | বঙ্গাব্দ
ঢাকা |

“আমার পেটে লাথি মেরেছে”—মমতার গুরুতর অভিযোগে উত্তাল রাজনীতি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : May 5, 2026 ইং
“আমার পেটে লাথি মেরেছে”—মমতার গুরুতর অভিযোগে উত্তাল রাজনীতি ছবির ক্যাপশন:

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুর এলাকার একটি গণনাকেন্দ্রে তার সঙ্গে শারীরিক লাঞ্ছনার অভিযোগ তুলেছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কলকাতার ভবানীপুর এলাকার সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে স্থাপিত গণনাকেন্দ্রকে ঘিরে এই ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেন তিনি। মমতার অভিযোগ, গণনা চলাকালীন সময়ে তাকে কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয় এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

Mamata Banerjee বলেন, ভোট গণনার সময় তাকে শারীরিকভাবে ধাক্কা দেওয়া হয় এবং লাঞ্ছিত করা হয়। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ওই সময় কেন্দ্রের সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, যাতে পুরো ঘটনাটি রেকর্ড না হয়।

তিনি দাবি করেন, “গণনাকেন্দ্রের ভেতরে আমাকে মারধর করা হয়েছে এবং পেটে ও পিঠে লাথি মারা হয়েছে।” তার মতে, এটি একটি পরিকল্পিত পরিস্থিতি ছিল, যেখানে দলের এজেন্টদেরও প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।

মমতার অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি কয়েক মিনিটের জন্য ভেতরে প্রবেশ করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেন এবং দলের এজেন্টদের ঢোকার অনুমতি চান। তবে পরবর্তীতে তাদের আর প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

এই ঘটনায় তিনি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী Central Reserve Police Force (CRPF)-এর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং তাদের আচরণকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে তিনি ভারতের নির্বাচন কমিশন Election Commission of India-এর নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের অনিয়ম হয়েছে এবং কিছু আসনে ফলাফল প্রভাবিত করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বিরোধী দলীয় শক্তির পক্ষ থেকে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা হয়েছে।

অন্যদিকে, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ Suvendu Adhikari এই অভিযোগের বিপরীতে মন্তব্য করে বলেন, নির্বাচনে জনগণই তাদের রায় দিয়েছে এবং ফলাফল গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ।

এই ঘটনার পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে। শাসক ও বিরোধী দলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ভোট গণনা কেন্দ্রকে ঘিরে এমন অভিযোগ নির্বাচনী স্বচ্ছতা এবং প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। তবে এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, এই ধরনের অভিযোগ আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে নির্বাচনী সহিংসতা, নিরাপত্তা এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সব মিলিয়ে, ভবানীপুরের এই ঘটনাকে ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে, যা নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : কসমিক ডেস্ক

কমেন্ট বক্স
ভারত সীমান্তে নজরদারি জোরদার, সতর্ক অবস্থায় বিজিবি

ভারত সীমান্তে নজরদারি জোরদার, সতর্ক অবস্থায় বিজিবি