পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর হামলার জবাবে ইসলামাবাদে প্রতিশোধমূলক অভিযান চালানোর দাবি করেছে আফগানিস্তান। দেশটির জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই অভিযানে পাকিস্তানের ১৪ জন সেনা নিহত হয়েছেন এবং আরও ১১ জন আহত হয়েছেন। আফগানিস্তানের সংবাদমাধ্যম টোলো নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।
আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেল প্রায় ৫টার দিকে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের ফয়জাবাদ এলাকায় একটি সামরিক স্থাপনায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানের একটি প্রধান সামরিক স্থাপনা।
আফগান কর্তৃপক্ষ এই অভিযানের নাম দিয়েছে ‘রাদ-উল-জুলম’। তাদের দাবি, পাকিস্তানি বাহিনীর সাম্প্রতিক হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অভিযানে পাকিস্তানের ১৪ জন সেনা নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ১১ জন। এই হামলার মাধ্যমে পাকিস্তানের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এই ঘটনাকে ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনা নতুন করে বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে টানাপোড়েন রয়েছে। সাম্প্রতিক এই হামলার ঘটনা সেই উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সামরিক বিশ্লেষক সাদিক শিনওয়ারি এ বিষয়ে মন্তব্য করে বলেছেন, আফগান প্রতিরক্ষা বাহিনীর এই প্রতিশোধমূলক অভিযানের মাধ্যমে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে। তার মতে, কাবুলের সামরিক বাহিনী পাকিস্তানের অভ্যন্তরে বিমান হামলা চালানো এবং দেশটির সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার সক্ষমতা রাখে।
তিনি বলেন, এই অভিযান আফগানিস্তানের সামরিক সক্ষমতার একটি বার্তাও বহন করছে। এর মাধ্যমে তারা দেখাতে চেয়েছে যে প্রয়োজন হলে সীমান্তের বাইরে গিয়েও সামরিক অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব।
তবে আফগানিস্তানের এই হামলার বিষয়ে এখন পর্যন্ত পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পাকিস্তান সরকার বা সামরিক বাহিনী এই দাবি সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেনি বলে টোলো নিউজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে আফগানিস্তানের স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে পাকতিকা এবং কুনার প্রদেশে পাকিস্তানের সামরিক হামলার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
কুনার প্রদেশের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রধান জিয়াউররহমান স্পিংঘার জানিয়েছেন, গত ৪৮ ঘণ্টায় পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী কুনারের বিভিন্ন জেলায় ২৭১টির বেশি রকেট নিক্ষেপ করেছে।
তার মতে, এই হামলাগুলো সীমান্তবর্তী অঞ্চলের পরিস্থিতিকে আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও এতে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে উত্তেজনা বাড়ার পাশাপাশি কূটনৈতিক আলোচনার বিষয়টিও সামনে এসেছে। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর কারণে সেই আলোচনা কার্যত ভেস্তে গেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারীরা মনে করছেন, যদি এই ধরনের পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত থাকে, তাহলে দুই দেশের সীমান্ত পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
বর্তমানে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্কের অবস্থা সংবেদনশীল পর্যায়ে রয়েছে। সাম্প্রতিক এই হামলার দাবি ও পাল্টা অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
কসমিক ডেস্ক