সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-এর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।
সোমবার (৪ মে) দুপুরে তারা রাজধানীর জিয়া উদ্যান-এ গিয়ে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় তারা সংক্ষিপ্ত দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন এবং প্রয়াত নেতাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠানে বিএনপির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি নবনির্বাচিত নারী সংসদ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে মাজার প্রাঙ্গণে যান এবং পুরো কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সংসদের সরকারদলীয় হুইপ নূরুল ইসলাম মনিসহ সংরক্ষিত নারী আসনের অন্যান্য সংসদ সদস্যরা।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নতুন সংসদ সদস্যদের ওপর জনগণের অনেক প্রত্যাশা রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, তারা সংসদে গিয়ে দেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।
তিনি বলেন, “আপনারা যারা সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়ে এসেছেন, দেশ গঠনে আপনাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে আপনাদের কাজ করতে হবে।”
নবনির্বাচিত নারী এমপিরাও তাদের দায়িত্ব সম্পর্কে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। তারা জানান, সংসদে গিয়ে নারী, শিশু এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় কাজ করবেন। পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন বৈষম্য দূরীকরণে ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার করেন।
এর আগে, রবিবার রাতে জাতীয় সংসদ ভবন-এর শপথকক্ষে সংরক্ষিত নারী আসনের ৪৯ জন সংসদ সদস্য শপথ গ্রহণ করেন। শপথবাক্য পাঠ করান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
বাংলাদেশের সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়। এর মাধ্যমে নারীরা সরাসরি আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পান।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা নিবেদন রাজনৈতিক ঐতিহ্যের একটি অংশ, যা দলীয় ইতিহাস ও নেতৃত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের প্রতীক। একই সঙ্গে এটি নতুন নেতৃত্বের জন্য একটি অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবেও কাজ করে।
সব মিলিয়ে, শপথ গ্রহণের পরপরই দলীয় প্রতিষ্ঠাতা ও নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো বিএনপির নতুন নারী সংসদ সদস্যদের রাজনৈতিক যাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।a
কসমিক ডেস্ক