ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় অভিযান চালিয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মো. রাকিবুল হাসান জুয়েলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকালে সালথা সদর বাজার এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার জুয়েল সালথা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি দ্রুত বিচার ও বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের একটি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ছিলেন।
সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবুলুর রহমান খান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দীর্ঘদিন ধরে তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছিল। অবশেষে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা সম্ভব হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত রাকিবুল হাসান জুয়েল উপজেলার ভাওয়াল ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি ভাওয়াল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল ওহাব মাতুব্বরের ছেলে। স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তিনি পরিচিত একটি নাম।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল এবং বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। মামলার প্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল।
অভিযানের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সালথা সদর বাজার এলাকায় অবস্থান নিয়ে তাকে আটক করে। পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হয়।
স্থানীয়দের মতে, এই গ্রেপ্তারের ঘটনায় এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপকে স্বাভাবিক বলে মনে করছেন, আবার কেউ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও বিবেচনায় আনছেন।
তবে পুলিশ জানিয়েছে, এটি সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ এবং মামলার ভিত্তিতেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যেকোনো অপরাধমূলক মামলায় আইনের শাসন নিশ্চিত করতে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার এবং বিচারিক প্রক্রিয়ায় আনা জরুরি। এতে সমাজে আইনের প্রতি আস্থা বৃদ্ধি পায়।
সার্বিকভাবে, ফরিদপুরের সালথায় এই গ্রেপ্তারের ঘটনা স্থানীয় রাজনীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার দিকে এখন সবার নজর রয়েছে।
কসমিক ডেস্ক