কৃষকদের জন্য সরকারি সহায়তা আরও সহজ ও স্বচ্ছ করতে কুমিল্লায় প্রথম ধাপে ১,৪৫৮ জন কৃষকের মাঝে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ করা হবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ভূমিহীন, প্রান্তিক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকরা সরাসরি সরকারি সুবিধা পাবেন।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সকালে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার বিবিরবাজার হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে এ কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, কুমিল্লার উপপরিচালক মো. মিজানুর রহমান জানান, এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে বিভিন্ন শ্রেণির কৃষকদের অন্তর্ভুক্ত করে। এতে ভূমিহীন, প্রান্তিক, ক্ষুদ্র, মাঝারি এবং সীমিত সংখ্যক বড় কৃষকও রয়েছেন।
তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ধাপে অন্তর্ভুক্ত ১,৪৫৮ জন কৃষকের মধ্যে ভূমিহীন কৃষক রয়েছেন ২০৫ জন, প্রান্তিক কৃষক ৬২৮ জন, ক্ষুদ্র কৃষক ৫৪৪ জন, মাঝারি কৃষক ৩৯ জন এবং বড় পরিসরের কৃষক রয়েছেন ২ জন।
এছাড়া লিঙ্গভিত্তিক হিসেবে দেখা যায়, তালিকাভুক্ত কৃষকদের মধ্যে পুরুষ কৃষক ১,১৪৪ জন এবং নারী কৃষক ৩১৪ জন। এই তথ্য কৃষি খাতে নারী অংশগ্রহণের একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র তুলে ধরে।
সরকারের এই ‘কৃষক কার্ড’ ব্যবস্থার মাধ্যমে কৃষকরা বছরে নির্দিষ্ট পরিমাণ নগদ সহায়তা পাবেন, যা ধরা হয়েছে প্রায় ২,৫০০ টাকা। পাশাপাশি তারা কৃষি উপকরণ ক্রয়ে বিশেষ সুবিধা পাবেন।
এছাড়া এই কার্ডের মাধ্যমে সার, বীজ, সেচ সুবিধা, কৃষিঋণ, প্রশিক্ষণ এবং বাজার সংক্রান্ত তথ্যসহ বিভিন্ন ধরনের সেবা পাওয়া যাবে। এর ফলে কৃষকদের জীবনযাত্রা সহজ হবে এবং কৃষি উৎপাদনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান সভাপতিত্ব করবেন বলে জানা গেছে। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিকুল ই মোহাম্মদ এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব দেলোয়ার হোসেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল কৃষক কার্ড কৃষি খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারমূলক পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমে কৃষকরা সরাসরি সরকারি সহায়তা পাবেন। এতে স্বচ্ছতা যেমন বাড়বে, তেমনি কৃষকদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তাও কিছুটা নিশ্চিত হবে।
সব মিলিয়ে, কুমিল্লার এই উদ্যোগ কৃষকদের জন্য একটি বড় ধরনের স্বস্তির খবর হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য জেলাতেও ধাপে ধাপে এই কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
কসমিক ডেস্ক